ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

শিশুর মরদেহ উদ্ধার নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০৬:২৯ এএম

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর কংশ নদ থেকে পাঁচ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির স্বজনরা মৃত্যুর ঘটনাকে সন্দেহজনক দাবি করে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত শিশুর নাম নিসা মণি (৫)। সে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের টাঙ্গাটি মধ্যপাড়া গ্রামের রাজু ওরফে লাক মিয়ার মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে বাড়ির পাশ থেকে নিসা মণি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের কংশ নদে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি নিসা মণির বলে শনাক্ত করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর তারা বিষয়টিকে সন্দেহজনক মনে করে পুলিশকে অবহিত করেন। পরে রাতেই ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। গতকাল সোমবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আরজ আলী বলেন, ‘বিকেলে শিশুটি নিখোঁজ হয়। সন্ধ্যায় কংশ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।’

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ধোবাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সি দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।