ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

৮০ দিনের অপেক্ষা শেষে স্বস্তি চা-শ্রমিকদের

মুজিবুর রহমান রঞ্জু, পূর্বাঞ্চল
প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০৬:৩০ এএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টানা ৮০ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। গতকাল সোমবার দুপুরে হাসপাতালটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

গত ২৭ মার্চ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক চা-শ্রমিকের শিশুসন্তানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শমসেরনগর চা-বাগানে অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে হামলা, ভাঙচুর এবং চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে হাসপাতালের চিকিৎসকরা কর্মস্থল ত্যাগ করলে হাসপাতালটির সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যায়।

হাসপাতালটি পুনরায় চালুর দাবিতে ‘চা-শ্রমিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতেই হবে’ স্লোগানে ডানকান ব্রাদার্সের বিভিন্ন চা-বাগানে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শ্রমিকরা। এ নিয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মুজিবুর রহমান চৌধুরী, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান এবং শমসেরনগর চা-বাগানের মহাব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করেন।

পরবর্তী সময়ে ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে হাসপাতালের পরিচালক আনোয়ারুল ইসলামসহ চিকিৎসকরা কর্মস্থলে ফিরে আসেন। সোমবার দুপুরে সংসদ সদস্য আলহাজ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালু করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি প্রতিনিধি রঞ্জিত চন্দ্র শীল এবং শমসেরনগর চা-বাগানের মহাব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন ১৫টি চা-বাগানের শ্রমিক ও তাদের পরিবারের লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা ছিল ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল। একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পর নিরাপত্তার অভাবে চিকিৎসকরা হাসপাতাল ত্যাগ করায় দীর্ঘ ৮০ দিন চিকিৎসাসেবা বন্ধ ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অসহায় চা-শ্রমিকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে পুনরায় চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন, চা শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালটি পুনরায় চালু করায় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। এতে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হয়েছে।

দীর্ঘদিন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত থাকার পর হাসপাতালটি পুনরায় চালু হওয়ায় চা-শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।