রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রবল স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনের চাপে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে দৌলতদিয়া ১, ২ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকা। নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উৎকণ্ঠা।
গতকাল সোমবার ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পদ্মার তীব্র স্রোতে ফেরিঘাটসংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে পাড় ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কোথাও বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, আবার কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ঝুলে রয়েছে পাড়ের মাটি। নদীর খুব কাছাকাছি থাকা ঘরবাড়ির বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখছেন, যেন যেকোনো সময় নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মমিন ম-ল বলেন, দিনের চেয়ে রাতের ভয়টাই বেশি। কখন যে নদী এসে ঘরটা নিয়ে যাবে, সেই আতঙ্কে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন বাড়ির একেবারে কাছে চলে এসেছে।
আকলিমা বেগম বলেন, এর আগেও ভাঙনে অনেক কিছু হারিয়েছি। এখন আর নতুন করে কোথাও যাওয়ার সামর্থ্য নেই। শুধু শুনি ব্যবস্থা হবে, কিন্তু ভাঙন তো থামছে না। রোজিনা আক্তার বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সব সময় মনে হয়, এই বুঝি সব শেষ হয়ে গেল। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবার পথে বসবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে দৌলতদিয়ায় নদীভাঙন চললেও স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বর্ষা এলেই আতঙ্ক বাড়ে, আর পানি কমলে আলোচনা থেমে যায়।
দৌলতদিয়া ঘাট শাখার বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পেছনের অংশেও ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাশ জানান, ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন নিবিড়ভাবে নজরদারি করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজের অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
পদ্মার ভাঙন এখন দৌলতদিয়ার মানুষের কাছে শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং টিকে থাকার সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন নদীর দিকে তাকিয়ে তারা হিসাব কষছেন, আর কতদিন টিকবে তাদের ভিটামাটি। স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক নয়, দৌলতদিয়াকে রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।

