× UCB Sticker Card
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রেজাউল করিম মানিক, রংপুর

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০১:২৫ এএম

তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই, বন্যার শঙ্কা

রেজাউল করিম মানিক, রংপুর

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০১:২৫ এএম

তিস্তার পানি বিপৎসীমা  ছুঁইছুঁই, বন্যার শঙ্কা

বৃষ্টি আর উজানের ঢলে হু হু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে; যা বর্তমানে ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। নদীর পানি বাড়তে থাকায় তীরবর্তী নি¤œাঞ্চল ও চর এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। এরই মধ্যে অনেক চরাঞ্চলের আবাদি জমির ফসল তলিয়ে গেছে। রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধার তিস্তাপাড়ের মানুষ বন্যার আশঙ্কা করছেন।

তিস্তার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে তবে রোববার সকালের মধ্যে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা। এতে নদীর দুই তীর উপচে চরাঞ্চলের আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন চরের কৃষকরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, শনিবার সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। গত শুক্রবার সকাল ৯টায় এ পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছিল ৫১ দশমিক ৬৪ মিটার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ভারত গজলডোবা ব্যারেজের  ২০টি গেট খুলে দিয়েছে। এতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। চরের অনেক কৃষকের আবাদি জমি ডুবে গেছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তিস্তার পানি হুহু করে বাড়ছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোনো সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে তিস্তাপাড়ে বন্যা দেখা দিতে পারে। যেহেতু উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসছে, তাই তিস্তার পানি বাড়তেই থাকবে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকার কৃষক শামসুল হক জানান, শনিবার ভোরে তিস্তার পানি তাদের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। পানি আর একটু বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। যেভাবে নদীর পানি বাড়ছে তাতে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৌলমারী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের চরটি নদীর পানিতে ডুবে গেছে। তারা এখনো বাড়িতে অবস্থান করছেন। তবে পানি আরেকটু বাড়লে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। গেল কয়েকদিন ধরে দিনে বৃষ্টি না হলেও প্রত্যেক রাতেই বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি হুহু করে আসছে।

মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন জানান, উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসার গতি দেখে মনে হচ্ছে এবার তিস্তাপাড়ে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। খেতে এখন তেমন ফসল নেই। তবে আমন ধানের চারার জন্য কিছু বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।

চর ইসলির কৃষক আমজাদ আলী বলেন, তার আবাদ করা দেড় বিঘা জমির বাদাম তলিয়ে গেছে, পানি স্থায়ী হলে বড় লোকসান গুনতে হবে। চর রাজপুরের কৃষক সুলাইমান আলী বলেন, চরে বিভিন্ন শাকসবজি আবাদ করা হয়েছে কিন্তু হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে সেগুলো তলিয়ে যাওয়ায় এখন বিপাকে পড়েছি।

রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও নদীপাড়ে ভাঙন পরিস্থিতি পযর্বেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, গঙ্গাধর, জিনজিরাম, ঘাঘট নদীপাড়ে আপাতত বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!