ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

শিশু তাবাসসুমকে ধর্ষণ ও হত্যা  মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ০৮:২৫ এএম

ঝিনাইদহের চাঞ্চল্যকর চার বছরের শিশু তাবাসসুমকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় আসামি আবু তাহেরকে (৩৩) মৃত্যুদ- দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদ- করা হয়েছে। সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় মাত্র ৫ কর্মদিবসে বহুল আলোচিত এই মামলার রায় দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। দ-প্রাপ্ত আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের মসলেম উদ্দিনের ছেলে। সে পেশায় একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি এবং নিহত শিশুর বাড়ির পাশেই ভাড়া থাকত।

আদালত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাসসুমকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার শুরু করলে খুনি আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। এতে শ্বাসরোধে মারা যায় তাবাসসুম। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখে সে। এই ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে নিহত শিশুর বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়াবাসা থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। গত ২৬ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

এরপর গত ১৬ জুন মামলাটির শুনানি শুরু হয়। ১৭ জুন চার্জ গঠন শেষে মাত্র ৫ কর্মদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি সম্পন্ন করে গত রোববার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত গতকাল সোমবার এই ঐতিহাসিক রায় দেন। দ্রুততম সময়ে এই রায় আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনজীবী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।