ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের প্রধান সড়কের চার লেন উন্নয়ন কাজ। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। সিপি থেকে পানামা পোর্ট পর্যন্ত কিছু কাজ সম্পন্ন হলেও চারমাথা থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত সড়কের অংশটি এখনো পড়ে আছে অসম্পূর্ণ অবস্থায়। বর্তমানে এ সড়ক দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার যানবাহন, অটোরিকশা, রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষায় কাদা ও খানাখন্দে পরিণত হওয়ায় চলাচল প্রায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, হিলি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। এ বন্দর থেকে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেলেও বন্দরের প্রধান সড়কের এমন বেহাল দশা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির কারণ হয়ে আছে।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর জিরো পয়েন্ট থেকে পানামা পোর্ট গেট পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মিটার চার লেন সড়কের কাজ শুরু হয়। এক পাশে ঢালাইয়ের কাজ করা হলেও পানামা পোর্ট থেকে সিপি পর্যন্ত তিন লেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে জিরো পয়েন্ট থেকে সিপি এবং চারমাথা থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত অংশের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
অসম্পূর্ণ সড়কে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। বর্ষার পানিতে রাস্তা তলিয়ে গেলে কিংবা ভেঙে গেলে সাময়িকভাবে ইট ফেলে মেরামত করা হয়। এতে হাসপাতালগামী রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন। পাশাপাশি ভারত থেকে আসা শত শত পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। নির্মাণাধীন রাস্তার অনেক অংশে কোথাও উঁচু-নিচু, কোথাও গর্ত থাকায় যানবাহন চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক নুর ইসলাম বলেন, ‘রাস্তার এই বেহাল অবস্থার কারণে ব্যবসায়ীসহ পুরো হিলিবাসী কষ্টের মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।’ নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দ্রুত কাজ শুরু হবে।’ তিনি জানান, ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ৯৮ কোটি টাকা জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হিলি বন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে পানামা পোর্ট গেট পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

