ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

সাড়ে ৯ হাজার গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

কলিট তালুকদার, পাবনা
প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৬:৪৮ এএম

বছরজুড়ে স্বপ্ন বুনেছিলেন পাবনার খামারিরা। কোরবানির ঈদে পরম যতেœ লালন-পালন করা গরু বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবেনÑ এমন প্রত্যাশাই ছিল তাদের। কিন্তু ঈদের হাটে ক্রেতা সংকট ও প্রত্যাশার তুলনায় কম দাম পাওয়ায় সেই স্বপ্ন অনেকটাই ভেস্তে গেছে। জেলার খামারগুলোতে এখনো অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার গরু। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার গরু বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। ঈদ উপলক্ষে হাটে গরু নেওয়ার পরিবহন খরচ, ঋণের কিস্তির চাপ এবং বিক্রি না হওয়া গরুর খাবার খরচÑ সব মিলিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন খামারিরা।

খামারিরা জানান, ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় হাটে গরু নিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যায়নি। ফলে ট্রাক ভাড়া করে অনেক গরু আবার খামারে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। হাটের পরিবেশ ও দীর্ঘ যাতায়াতের ধকল সইতে না পেরে অনেক গরু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এতে পশু চিকিৎসা বাবদ বাড়তি খরচও গুনতে হচ্ছে।

পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের হামিদপুর এলাকার খামারি ফারুক হোসেনের পালিত জেলার আলোচিত গরু ‘সাদা সুলতান’ নিয়েও হতাশা তৈরি হয়েছে। ফ্রিজিয়ান জাতের প্রায় ৩০ মণ ওজনের এ গরুটির দাম তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন ১৬ লাখ টাকা। কিন্তু ক্রেতা সংকটের কারণে সর্বোচ্চ দাম উঠেছে সাড়ে ৮ লাখ টাকা। ফারুক হোসেন বলেন, ‘নিজে কষ্ট করলেও সুলতানকে কষ্ট করতে দেইনি। লাখ লাখ টাকা খরচ করে আদরে লালন-পালন করেছি। কিন্তু সেই গরুর অর্ধেক দামও উঠল না। এখন এর পেছনে প্রতিদিন যে খরচ হবে, সেটাই চিন্তার বিষয়।’ শুধু ফারুক হোসেন নয়, পাবনার অনেক খামারি ঢাকার রামপুরা, বাড্ডা, আফতাবনগর ও গাবতলীসহ বিভিন্ন হাটে গরু নিয়ে গিয়েছিলেন। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেকেই লোকসান নিয়ে গরু ফিরিয়ে এনেছেন। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পাবনা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার। এর বিপরীতে প্রস্তুত করা হয়েছিল ৬ লাখ ৫৩ হাজার পশু।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘পাবনায় বরাবরই চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ পশু প্রস্তুত থাকে। এবারও তাই হয়েছে। সাড়ে ৯ হাজারের মতো গরু অবিক্রীত রয়েছে। এগুলো ঈদ-পরবর্তী বাজারে বিক্রি হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফেরত আসা অসুস্থ গরুগুলোর চিকিৎসার জন্য খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ভেটেরিনারি সেবা দেওয়া হচ্ছে।’