ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

৪ কন্যা নিয়ে অসহায় মায়ের জীবনযুদ্ধ

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৬:৫৬ এএম

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২২০ নম্বর ঘরটি যেন এখন শোক আর অভাবের এক প্রতিচ্ছবি। ঘরের কোণে বিষণœ হয়ে বসে আছেন আরজু আক্তার। তার পাশে নিষ্পলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে চার কন্যাসন্তান। ঘরভর্তি দারিদ্র্য আর মাথার ওপর স্বজন হারানোর চাপÑ সব মিলিয়ে এক অসহনীয় জীবন কাটছে এই পরিবারের। গত ১১ জুন স্ট্রোক করে সংসারের একমাত্র অবলম্বন স্বামী ইসরাফিলের মৃত্যুর পর যেন পৃথিবীটাই থমকে গেছে তাদের কাছে।

১৫ বছর আগে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতে স্পৃষ্ট হয়ে ইসরাফিল হারিয়েছিলেন একটি হাত ও একটি পা। কিন্তু শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা তাকে দমাতে পারেনি। অদম্য এই মানুষটি ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন শুধু পরিবারের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য। তিনি নিজে অপূর্ণ থাকলেও সন্তানদের সাধ্যমতো পূর্ণতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন আমৃত্যু।

আজ সেই অভিভাবক নেই। বড় মেয়ে ইয়াছমিনের বিয়ে দিতে গিয়ে এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের বোঝা এখনো আরজু আক্তারের কাঁধে। মেজো মেয়ে ইয়ানুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে, আর ছোট দুই মেয়ে এখনো বোঝেনিÑ কেন তাদের ঘরে আজ খাবারের টান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরজু আক্তার বলেন, ‘স্বামী বেঁচে থাকতে অনেক কষ্ট হলেও সংসার চলত। সন্তানদের নিয়েও একটা আশা ছিল। কিন্তু এখন মেয়েদের নিয়ে কীভাবে চলব, কীভাবে তাদের মানুষ করব বুঝতে পারছি না। অনেক সময় খাবার জোগাড় করতেও কষ্ট হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি সহায়তা পরিবারটির কাছে পৌঁছেনি। তারা জানান, ইসরাফিল জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেভাবে পরিবারের জন্য লড়েছেন, তার মৃত্যুর পর পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ অসহায়।

হাইদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘পরিবারটির জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা, সরকারি ভাতা এবং শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তা না হলে শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে পড়বে।’

এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, পরিবারটির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তাদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং সরকারি সহায়তার আওতায় আনার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিঃস্ব এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সবার সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে হয়তো আরজু আক্তার তার চার কন্যাকে নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন।