ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই, ২০২৬

নদীভাঙন ও ধরলা নিয়ে নতুন শঙ্কা

তিস্তার পানি কমলেও কাটেনি জনদুর্ভোগ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৪:৩৩ এএম

উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় গত দুই দিন ধরে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে লালমনিরহাট জেলা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করলেও জনদুর্ভোগ ও আতঙ্ক কাটেনি বিন্দুমাত্র। জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় অমানবিক জীবনযাপন করছে। ফসলি জমি ও বসতভিটা তলিয়ে থাকায় চরম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা।

এদিকে তিস্তার পানি নামতে শুরু করলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। গ্রামীণ রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতভিটা থেকে পানি ধীরগতিতে নামছে। ফলে যোগাযোগব্যবস্থা এখনো বিচ্ছিন্ন।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের চর গোবর্ধন এলাকার কৃষক জহুরুল ইসলাম জানান, গত সোমবার রাত থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও রাস্তাঘাট এখনো ডুবে থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা এলেই আমাদের আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাতে হয়। তিস্তায় সামান্য পানি বাড়লেই আমাদের এলাকায় বন্যা দেখা দেয়।

অন্যদিকে, শৈলমারী চরের কৃষক আবেদ আলী জানান, হঠাৎ পানি বাড়ায় তার বাদামখেত ও মাছের প্রজেক্ট সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। প্রতি বছর ভারত থেকে ছেড়ে দেওয়া পানির কারণে তাদের এই বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়, যার স্থায়ী সমাধান চান তিনি। হাতীবান্ধার ডাউয়াবাড়ী চর এলাকার কৃষক মনছুর আলী পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন; পানি কিছুটা কমলেও ঘরবাড়ির পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এখনো ফিরতে পারেননি।

হাতীবান্ধার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, গত রোববার রাতে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার রাতেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। সোমবার সকাল থেকে পানি কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার (৫২.১৫ মিটার) ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘তিস্তার পানি কমছে এবং এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে নদীর বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে, যা আমাদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, ধরলা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান জানান, বন্যা মোকাবিলায় আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত আছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়, তিস্তার পানি কমলেও নদীভাঙনের কবলে পড়া এলাকাগুলোকে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছি।’