টানা বৃষ্টিতে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব গর্তে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
গত রোববার ভারী বৃষ্টির পর মহাসড়কের পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ বলে দেখা গেছে। বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলো তলিয়ে থাকায় চালকরা বুঝতে পারছেন না কোথায় গর্ত, কোথায় স্বাভাবিক সড়ক। ফলে অনেক যানবাহন হঠাৎ গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ভারী ট্রাক, বাস ও কাভার্ডভ্যানের চাপে এসব গর্ত আরও বড় হচ্ছে। গর্ত এড়াতে গিয়ে যানবাহনগুলো লেন পরিবর্তন করছে, এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল চালকরা। অনেক গাড়ির চাকা গর্তে পড়ে নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মোটরসাইকেল আরোহীদের সামান্য অসতর্কতায় দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। অন্যদিকে যাত্রীবাহী বাসগুলো ধীরগতিতে চলাচল করায় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানজট তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মাঝেমধ্যে ইট ও খোয়া ফেলে সাময়িকভাবে মেরামত করা হলেও ভারী যানবাহনের চাপ ও বৃষ্টির কারণে কয়েক দিনের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে একই স্থানে আবারও গর্ত তৈরি হয়।
ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক রাজধানীর সঙ্গে গাজীপুর হয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পণ্যবাহী যান ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করে এই মহাসড়কে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বেহাল অবস্থায় যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট সমস্যা। এমসি বাজার এলাকায় থাকা ছোট ছোট গর্তের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে কিছু অংশ মেরামতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, ‘মহাসড়কের ছোট ছোট গর্ত মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। তবে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে পূর্ণমাত্রায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ককে টেকসই ও নিরাপদ করতে টেন্ডারের মাধ্যমে দুইজন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু হবে।’ তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের দাবি, সাময়িক মেরামতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে বারবার একই স্থানে গর্ত তৈরি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তাই দ্রুত স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করে মহাসড়কটি নিরাপদ ও নির্বিঘœ চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

