ধানের জমি বিভাজনের জন্য ব্যবহৃত জমির আইল এখন কেবল সীমানা নির্দেশক নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে কৃষকের বাড়তি আয়ের নতুন উৎস। বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কৃষকরা ধানখেতের আইলে মিষ্টিকুমড়া চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। ধানের পাশাপাশি এই অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।
উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাহাদুরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা জানান, ধান চাষের জন্য নির্ধারিত জমির কোনো ক্ষতি না করেই আইলের অব্যবহৃত অংশে তারা মিষ্টিকুমড়া রোপণ করছেন। জমি চাষাবাদের পাশাপাশি একই সঙ্গে দুটি ফসল ঘরে তোলায় কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কৃষক গোলিস ইলাদান বলেন, শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি কুমড়ার বীজ রোপণ করেছিলাম। ভালো ফলন পাওয়ায় সাহস বাড়ে। এখন আমার দেখাদেখি এলাকার অনেক কৃষকই আইলে কুমড়া চাষ করছেন।
কৃষকদের মতে, মিষ্টিকুমড়া চাষে তুলনামূলক খরচ খুবই কম। একবার রোপণ করলে একটি গাছ থেকে একাধিক কুমড়া পাওয়া যায়, যা বাজারে বেশ ভালো দামে বিক্রি হয়। এই কুমড়া স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরেও সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে আগৈলঝাড়ার হাট-বাজারে মৌসুমে শত শত মণ মিষ্টিকুমড়া বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষক পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে বড় ভূমিকা রাখছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের এই উদ্যোগকে আরও লাভজনক করতে কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও উন্নত জাতের বীজের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সচেতন মহলের মতে, বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা আরও উন্নত এবং সহজতর করা গেলে আগৈলঝাড়ার এই মিষ্টিকুমড়া সারা দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করবে। ধানের আইলে মিষ্টিকুমড়া চাষ এখন আগৈলঝাড়ার কৃষকদের কাছে একটি আদর্শ ও লাভজনক কৃষি উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃত পেয়েছে।

