ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

ধুনটে যমুনার ভয়াল ভাঙন

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০২:২৩ এএম

বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর মাত্র এক মাসের ব্যবধানে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি এবং একটি কৃষক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষের। ভাঙন ধীরে ধীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দিকেও অগ্রসর হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নদীর পানি ১৫ দশমিক ৫৭ মিটার সমতায় প্রবাহিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভাঙন আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যমুনার প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের মাটি ও বালুর স্তূপ একের পর এক নদীতে ধসে পড়ছে। এতে তীরবর্তী ফসলি জমি, গাছপালা এবং দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে শহড়াবাড়ী ও বানিয়াজান গ্রামের মধ্যবর্তী প্রায় ২০০ মিটার এলাকায়। সেখানে প্রতিদিনই নতুন নতুন অংশ নদীতে বিলীন হচ্ছে।

শহড়াবাড়ী গ্রামের কৃষক জুয়েল সেখ নদীতীরে বসে নিজের ভিটেমাটি নদীতে হারিয়ে যেতে দেখছিলেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘পৈতৃক ভিটায় প্রায় ১০০ বছরের বসতবাড়ি ছিল। কয়েক দিনের ব্যবধানে বাড়িসহ কয়েক বিঘা আবাদি জমি যমুনা গিলে ফেলেছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে পুরো শহড়াবাড়ী গ্রামই একদিন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই যমুনার ভাঙনে সর্বস্ব হারাতে হয় নদীপাড়ের মানুষকে। স্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় বছরের পর বছর তারা একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীতে পানির চাপ বেড়েছে। এতে নদীতীরবর্তী কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জিও ব্যাগ ফেলা ও টিউব ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে বলে তিনি জানান। তবে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।