কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ঠাকুরগাঁওয়ে টাঙ্গন নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় শহরের ডিসি বস্তিপাড়া এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ১২ থেকে ১৩টি বসতবাড়ি ও আশপাশের গাছপালা। আকস্মিক এই ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন নদীপাড়ের হতদরিদ্র মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন নদীসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে। পানির তীব্র স্রোত ও হুড়মুড় করে নদীর পাড় ভেঙে যাওয়ায় শহরের টাঙ্গন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর চোখ এখন দিশাহারা; মুহূর্তের মধ্যে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে তারা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো ভুক্তভোগী গৃহবধূ রানু বেগম বলেন, ‘রাইতে হঠাৎ কইরা নদীর পানি বাইড়া যায় আর হুড়মুড় কইরা ভাঙন শুরু হয়। চোখের পলকে চোখের সামনে আমার শেষ সম্বল ঘরটা নদীগর্ভে চইলা গেল। ঘরে থাকা কোনো জিনিসপত্রই বাইর করতে পারি নাই। এখন স্বামী-সন্তান নিয়া কই যামু, কী খামুÑ কিচ্ছু বুঝতে পারতাছি না। পরনের কাপড় ছাড়া আমাদের আর কিচ্ছু নাই।’
এদিকে ভাঙনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সদর ইউএনও খাইরুল ইসলাম। তিনি দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্গত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি নদীভাঙনের শিকার এসব অসহায় পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে পৌরসভার পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাদের পার্শ্ববর্তী একটি মাদ্রাসায় সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইউএনও খাইরুল ইসলাম বলেন, টাঙ্গন নদীর পানি বেড়ে ডিসি বস্তি এলাকায় কিছু বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুর্গত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে।

