ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

রাজশাহীর তানোর

কাজ ফেলে লাপাত্তা ঠিকাদার

সারোয়ার হোসেন, তানোর (রাজশাহী)
প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০২:৫৬ এএম

রাজশাহীর তানোরে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে। বারবার তাগাদা দিলেও ঠিকাদাররা কর্ণপাত করছেন না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। ফলে ঠিকাদারদের কাছে এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। আর কাজ ফেলে রাখায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ পথচারী ও যানচালকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় গ্রামীণ পর্যায়ে প্রায় ৭-৮টি রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল এক থেকে দেড় বছর আগে। জিওবি মেন্টেনেন্স প্রকল্পের এসব কাজ মূলত শহরের প্রভাবশালী ঠিকাদার মামুনসহ কয়েকজন পৌঁছে নেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর প্রভাব খাটিয়ে কাজগুলো নামমাত্র মূল্যে কিনে নেন তারা। এরপর অগ্রিম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ লাভ নিশ্চিত করে একেবারে নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে ট্র্যাক্টর দিয়ে রাস্তা খুঁড়ে পুরোনো খোয়া ও পাথর দেওয়া হয় এবং নামমাত্র বালু ফেলে লোক দেখানো রোলার চালানো হয়। রাস্তার দুপাশে নতুন ইট দিয়ে এজিং করার কথা থাকলেও তা না করে পুরোনো ইট বা বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে কাজ সারা হয়েছে। এভাবেই কাজগুলো মাঝপথে ফেলে লাপাত্তা হয়েছেন ঠিকাদাররা। অথচ তারা প্রায় নিয়মিতই এলজিইডি অফিসে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে চলে যান, কিন্তু কাজের বেলায় নীরব থাকেন।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তার বেহাল দশার কারণে বর্তমানে ওই পথ দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। খোয়া উঠে উঁচু হয়ে থাকায় প্রায়ই মালবাহী যান বিকল হয়ে পড়ছে। বর্তমানে জমিতে ধান রোপণ মৌসুম চলায় প্রতিদিন সার ও শ্রমিক আনা-নেওয়ার জন্য গাড়ি যাতায়াত করতে হয়, কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে চালকরা গাড়ি নিয়ে যেতে চান না। এ ছাড়া রাস্তায় নির্মিত নতুন কালভার্টগুলোতেও নামমাত্র সিমেন্ট ও রড ব্যবহার করা হয়েছে, যা যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

পৌর এলাকার চাপড়া স্কুল মাঠ থেকে মিরাপাড়া মোড়, আমশো গ্রাম, কলমার কুজিশহর, আজিজপুর, দরগাডাঙা থেকে নটিপাড়া, স্বপ্নের মোড় এবং কাশিমবাজার থেকে লবলবি ও চন্দনকোঠার রাস্তার কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রী বিদ্যালয় মাঠে ফেলে রাখায় খেলাধুলা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

এলজিইডি কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানায়, ঠিকাদারদের একাধিকবার চিঠি ও মৌখিক তাগাদা দেওয়া হলেও তারা তোয়াক্কা করছেন না। উল্টো অফিস ঘেরাওসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে গেছেÑ এই অজুহাতে তারা কাজ বন্ধ রেখেছেন। প্রায় ৬ কোটি টাকার এসব কাজ বন্ধ থাকায় সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নূর নাহার বলেন, ‘নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে ঠিকাদারদের চিঠি ও মৌখিকভাবে কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ঠিকাদারদের চাপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে রাস্তাগুলোর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। শুধু প্রাইমকোট ও কার্পেটিং বাকি রয়েছে। আমরা কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’