ঢাকা রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫

৫ ঘণ্টায় ৮ জনকে কুকুরে কামড়, ভ্যাকসিন না থাকায় ভোগান্তি

গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫, ০১:১০ পিএম
মুন্সীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুরা গ্রামে মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে ৮ জনকে কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে আড়াই বছরের শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আহতরা হলেনÑ লক্ষ্মীপুরার ইসরাফিল মিয়ার আড়াই বছরের ছেলে আয়ান, সৈয়দ মোহাম্মদ (৫০), নওনেহা (৬), সালমান (১৫), মো. রাব্বি (১৮), রিজওয়ান (১০), মাহিন (৭) ও সাফওয়ান (৬)।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক খন্দকার আরশাদ কবীর আতিক গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সোয়া ৮টার মধ্যে ৮ জন রোগী কুকুরে কামড়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো র‌্যাবিস ভ্যাকসিন ছিল না। এ কারণে তাদের দ্রুত মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতাল অথবা ঢাকার মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত বছর অক্টোবরে কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থেকে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছিল। তা দিয়ে প্রায় দুই মাস সেবা দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো ভ্যাকসিনের মজুত নেই।

এদিকে হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন না পেয়ে আহতদের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগী সৈয়দ মোহাম্মদ বলেন, এতগুলো মানুষ একসঙ্গে আক্রান্ত হলো অথচ স্থানীয় হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই, এটি খুবই দুঃখজনক। আমাদের ছোট বাচ্চাদের জীবন হুমকির মুখে। বারবার সদর হাসপাতালে বা ঢাকায় যেতে হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে খরচ বহন করা কষ্টকর।

এ সময় জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থায় গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করার দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি জীবনরক্ষাকারী টিকা না থাকাটা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। তারা এ ঘটনার পর দ্রুত কুকুর নিয়ন্ত্রণে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।

অল্প সময়ের ব্যবধানে ৮ জনকে কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা শুধু গ্রামীণ জনগণের অসহায় পরিস্থিতিই তুলে ধরেনি, বরং স্বাস্থ্যসেবার ভঙ্গুর অবস্থা এবং ভ্যাকসিন সংকটের বাস্তবতাও স্পষ্ট করেছে।