ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিসিবি কর্মকর্তার দুর্নীতি তামিমের হাতে কট

মাঠে ময়দানে ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৬, ০৭:০৯ এএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) দুর্নীতির এক অমানবিক চিত্র প্রকাশ্যে এনেছেন অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল। দরিদ্র পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দৈনিক পারিশ্রমিক থেকে বিসিবির এক অসাধু কর্মকর্তার টাকা আত্মসাতের ঘটনা হাতেনাতে ধরেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে দর্শকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই অনিয়মের বিষয়টি নজরে আসে তামিম ইকবালের।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তামিম ইকবাল জানান, স্টেডিয়ামের বাথরুমের অবস্থা পর্যবেক্ষণে গেলে একজন নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী তাকে জানান যে, তারা দৈনিক মাত্র ৩০০ টাকা করে বেতন পান। অথচ বিসিবির নথিপত্র ঘেঁটে তামিম জানতে পারেন, ক্লিনিং সার্ভিসের জন্য জনপ্রতি ৬৫০ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের অর্ধেকেরও বেশি টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে তিনি সংশ্লিষ্ট টেন্ডারধারী কোম্পানিকে তলব করেন। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে, টেন্ডার পাওয়া কোম্পানিটি বিসিবির নিজস্ব কর্মীদের ব্যবহার করেই কাজ চালাচ্ছিল এবং বরাদ্দের টাকার একটি বড় অংশ বিসিবির জনৈক কর্মকর্তার পকেটে যাচ্ছে।

তামিম ইকবাল এই ঘটনাকে ‘চরম লজ্জাজনক’ ও ‘ননসেন্স’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, যারা সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে মাত্র কয়েকশ টাকা আয় করেন, তাদের টাকা চুরি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দুর্নীতি ধরা পড়ার পর তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তামিম ইকবাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং সেই অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার প্রমাণ দেখালেই কেবল কোম্পানির বিল ছাড় করা হবে।

সাবেক এই অধিনায়ক আরও জানান, বিসিবির ভেতরে যে এমন পর্যায়েও দুর্নীতি হয়, তা ছিল তার কল্পনার বাইরে। অনিয়ম রোধে তিনি ওই কোম্পানিকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন বর্তমান সিরিজেই কর্মরত ৩০ জন নারীকে তার সামনে সরাসরি ৫০০ টাকা করে পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়। বিসিবির অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে তামিম ইকবালের এমন কঠোর অবস্থান সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।