ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

৫৪ ধারার অপব্যবহার, ইটনা থানার ওসিকে ব্যাখ্যার নির্দেশ 

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ১০:২৫ এএম
ইটনা থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম। ছবি - সংগৃহীত

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অপব্যবহার করে আসামি গ্রেপ্তারের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিমকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা মুরাদ আহম্মেদ ও সাজ্জাদ মিয়ার জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪ এর বিচারক আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিশেষ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা জজ আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. শামসুল আলম সিদ্দিকী বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী সাত বছরের অধিক সাজাযোগ্য অপরাধে কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে পুলিশের হাতে অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকতে হবে। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে এ ধরনের গ্রেপ্তার আইনসম্মত নয়।

মামলার নথি পর্যালোচনায় আদালত দেখতে পান, ইটনা থানার ওসি বিস্ফোরক দ্রব্য আইন-১৯০৮ এর ৩ ধারায়- যার শাস্তি সাত বছরের অধিক- কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন। অথচ গ্রেপ্তারের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য বা যাচাই-বাছাইয়ের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। আদালত বলেন, ‘যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ’ এবং ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য’-এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সাত বছরের অধিক সাজাযোগ্য অপরাধে কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার ফৌজদারি কার্যবিধির স্পষ্ট ব্যত্যয়। এতে পুলিশ আইন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা ও ৬৭(ক) ধারার লঙ্ঘন হয়েছে।

আদালত আরও বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আন্দোলনকারীদের নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হিসেবে ফাঁসানোর চেষ্টা গুরুতর বিষয়।

এ বিষয়ে যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে আইনগত পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শেখ আবু নায়েম ও জসীম উদ্দিন বলেন, মুরাদ আহম্মেদ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী এবং এনসিপির অনুমোদিত সমন্বয় কমিটির সদস্য।

দাখিলকৃত নথিতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো কমিটির সদস্য নন কিংবা কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন। অপর আসামি সাজ্জাদ মিয়ার পরিবারও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।

তার কন্যা অর্পিতা সুমাইয়া সুলতানা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বলে দাখিলী কাগজপত্রে উল্লেখ রয়েছে। তা সত্ত্বেও কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ছাড়াই তাকে আওয়ামী লীগের কর্মী সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।

এনসিপি ইটনা উপজেলা শাখার সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী আফজাল হোসাইন শান্ত বলেন, মুরাদ আহম্মেদ উপজেলা এনসিপির সমন্বয় কমিটির সদস্য। প্রথমে তাকে পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

কিশোরগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন বলেন, অন্য একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবে পুলিশ এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। মুরাদ আহম্মেদ জুলাই-আগস্ট আন্দোলনসংক্রান্ত কোনো মামলার আসামি নন।

অন্যদিকে, ইটনা থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম দাবি করেন, মুরাদ আহম্মেদ আগে যুবলীগের নেতা ছিলেন এবং নিজেকে বাঁচাতে ২০২৫ সালে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনার বিষয়ে তিনি এখনো কোনো লিখিত আদেশ পাননি বলে জানান। আদেশ পেলে আইনগতভাবে মোকাবিলা করবেন বলেও মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, মুরাদ আহম্মেদকে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ইটনা উপজেলার পুরাতন বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় একটি মিছিলে হামলার ঘটনায় তিনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন।