কয়েক দিন ধরেই উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা নেই সূর্যের। সারা দিন বইছে হিমেল হাওয়া। কনকনে শীতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। এমন পরিস্থিতিতে রাতের আঁধারে নিজেই কম্বল হাতে শীতার্তদের পাশে ছুটে যান জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ও বালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শীতার্ত মানুষের বাড়ি ও সড়কের বিভিন্ন স্থানে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে শীতার্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রীও বিতরণ করা হয়। হঠাৎ গভীর রাতে তীব্র শীতে শীতবস্ত্র পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েন ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষজন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন: অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল হক সুমন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাঈম আশরাফসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
শীতবস্ত্র পেয়ে খুশি হয়ে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা অলিমা বেওয়া বলেন, ‘অনেক মানুষের কাছে গিয়েছি, কেউ আমাকে একটা কম্বল দেয়নি। কিন্তু রাতের আঁধারে ডিসি স্যার নিজে আমার ঘরে এসে কম্বল ও খাবার দিয়েছেন। এতে আমি খুব খুশি।’
বালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জয়নাল হক ও আব্দুল খালেকসহ কয়েকজন বলেন, ‘গত ১৫ দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যায় না। এই ঠান্ডায় থাকা যায় না। কার কাছে কম্বল চাইব—কেউ তো দেয় না! আজ ডিসি স্যার আমাদের বাড়িতে এসে মোটা একটা কম্বল দিয়েছেন। এটা জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। এখন আর রাতে জ্বরে কাঁপতে হবে না, একটু আরামে ঘুমাতে পারব।’
জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রচণ্ড শীত পড়েছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে প্রাপ্ত শীতবস্ত্র আমরা বিতরণ করছি। যারা প্রকৃতপক্ষে শীতবস্ত্র পাওয়ার যোগ্য, তাদের চিহ্নিত করে ঘরে ঘরে গিয়ে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’

-20251231214634.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন