× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

‘অচল’ বন্দরকে ‘সচল’ দাবি বন্দর চেয়ারম্যানের!

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

কথা বলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কথা বলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের চলমান কর্মবিরতি আন্দোলনে প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘সচল’ বলে দাবি করেছেন বন্দরের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি করেন তিনি। যদিও সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, শুধু ইয়ার্ডই নয়, বন্দর ভবনের ভেতর সব দপ্তরের অফিসিয়াল কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। বন্ধ রয়েছে খোদ চেয়ারম্যান কার্যালয়ের কার্যক্রমও।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান বলেন, কিছু কিছু গণমাধ্যমে লেখা হচ্ছে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এ অভিযোগ মিথ্যা। এখানে আসার আগে আমি আমার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দুই ঘণ্টা মিটিং করেছি। সবার সঙ্গে কথা হয়েছে। সবাই আমাকে আশ্বস্ত করেছে, বন্দরের কাজ স্বাভাবিকভাবেই চলমান।

তিনি বলেন, সরকার ও জনগণকে জিম্মি করে কিছু বিপথগামী কর্মচারী এই পথ বেছে নিয়েছে। আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী-কর্মকর্তা, আমাদের আনুগত্য থাকবে রাষ্ট্রের প্রতি, বন্দর যে আইনে চলে সেই আইনের প্রতি। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কেউ যদি বিপথগামী হয়ে অন্য কারও আনুগত্য বেছে নেয়, সেটা কর্মকর্তা-কর্মচারী আচরণবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তাদের শাস্তি হবে।

এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, সামনে নির্বাচন ও রমজান। যারা আন্দোলনের নামে এসব কর্ম করছে, তারা রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। রমজানের আগে এ ধরনের একটি কাজ করে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে তারা। বন্দর সচল আছে। আমি দুই ঘণ্টা বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সবাই কাজে যাবে। কেউ বাধা দেবে না। যারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনসিটি অপারেটিং কার্যক্রম ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ বন্দরের প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

এ পরিস্থিতিতে ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে আসেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি দফায় দফায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বিকেলে শ্রমিকরা দুদিনের জন্য আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এর মধ্যে আন্দোলনের ‘আগুনে ঘি ঢালার’ অভিযোগ উঠে বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। কয়েক দফায় ১৬ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জায়গায় বদলির আদেশ দেন তিনি। শুধু তাই নয়, এসব কর্মকর্তা যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারে, সে জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দুদকের মাধ্যমে এসব কর্মচারীর সম্পদের তল্লাশি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে বন্দর।

বন্দর চেয়ারম্যান বন্দরের কাজকর্ম সচল দাবি করলেও প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। ৩১ জানুয়ারি আন্দোলন শুরু হওয়ার পর প্রায় বন্ধের পথে বন্দর। ধর্মঘটের কারণে বিভিন্ন জেটি, টার্মিনাল, কনটেইনার ডিপো, বহির্নোঙরসহ বন্দরের সব স্থানে কাজ বন্ধ রয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন গেটের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

৯ দিনের কর্মবিরতি ও অবরোধের কারণে বন্দর ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি জাহাজ জটের কবলে পড়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। থমকে গেছে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। সে সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বন্দর চেয়ারম্যানের প্রতি শ্রমিকদের অনাস্থা। নানা অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেছেন শ্রমিকরা।

অচলাবস্থার কারণে বন্দরের বহির্নোঙরের জটে পড়েছে দেড় শতাধিক জাহাজ। আটকা পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক কনটেইনার। এর মধ্যে রয়েছে আসন্ন রমজান উপলক্ষে আমদানি করা খাদ্যপণ্যের ৪৬টি জাহাজ। আটকা পড়েছে পোশাক শিল্পের আমদানি করা কাঁচামালও। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বহির্নোঙরে অবস্থান করা জাহাজের সংখ্যা ১১৫টি। এর মধ্যে ৬৭টি জাহাজের পণ্য খালাসের কাজ চলমান এবং ৩১টি জাহাজের কাজ পুরোপুরি বন্ধ।

শ্রমিকদের এই আন্দোলনের কারণে কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে পড়া জাহাজের মধ্যে জেনারেল কার্গো রয়েছে ২৬টি। নিত্যপণ্য রয়েছে এমন জাহাজ ২১টি। সার (ফার্টিলাইজার) কাঁচামাল আমদানি করা জাহাজ রয়েছে ৪টি। চিনি আমদানি করা জাহাজ ৫টি। লবণের জাহাজ ২টি। বহির্নোঙরে আটকা পড়া তেলবাহী জাহাজ রয়েছে ১৩টিরও বেশি।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে আন্দোলনরত ৬ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমরা কোনোভাবেই চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে দেব না।

Link copied!