নির্বাচনে নিজ আসনে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ তুলেছেন রংপুর-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেন। এ সময় তিনি প্রশাসনকে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি ফলাফলের বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে ১১ দলীয় জোটের বিজয় কেউ আটকাতে পারবে না।’
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি রংপুরে ভায়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসেন। ওই কেন্দ্রে তার মা ভোট প্রদান করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আখতার হোসেন। তবে নিজ ভোট ঢাকায় থাকায় তিনি নিজ আসনে ভোট দিতে পারেননি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের হেনস্তা করা হয়েছে এবং নারী কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। এসব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। এ সময় তিনি প্রশাসনকে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
জয়ের বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘শাপলা কলির পক্ষে জোয়ার উঠেছে। রংপুর-৪ আসনের ভোটাররা উন্নয়নের স্বার্থে শাপলা কলিকেই বেছে নিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ, বিশাল ব্যবধানে জয়ী হব।’
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা কপি প্রতীকে ১১ দলীয় জোট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন বিএনপির প্রার্থী শিল্পপতি এমদাদুল হক ভরসা, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান, বাসদ-মার্কসবাদীর প্রগতি বর্মণ তমা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা, বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জ্বল চন্দ্র রায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাহিদ হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম বাশার।
রিটার্নিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ৬ হাজার ৩৩৩ ও পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩১ জন। জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ৮৭৩ জন প্রিসাইডিং, ৫ হাজার ১৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং ও ১০ হাজার পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রংপুর জেলার ভোটকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি কেন্দ্রের বাইরে সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন