চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের চিফ কন্ট্রোলার অব স্টোরস (সিসিএস) দপ্তরে সংস্কারকাজ চলাকালে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে।
গত ১৩ মার্চ রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটের দিকে দপ্তরের পেছনের অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সংস্কারকাজ শুরুর আগেই দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম অক্ষত রয়েছে।
প্রায় দুই দশক পর রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রকিউরমেন্ট বিভাগ সিসিএস দপ্তরের অবকাঠামোগত সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই দপ্তরের সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছেন বর্তমান চিফ কন্ট্রোলার অব স্টোরস বেলাল হোসেন সরকার। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর উদ্যোগেই দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মালামাল ক্রয়, গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন দপ্তরে সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিসিএস দপ্তর। এখান থেকেই রেলওয়ের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল ক্রয় ও বিতরণের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দপ্তরের অধীনে পি–১ থেকে পি–৭ পর্যন্ত একাধিক ক্রয় শাখা, শিপিং সেকশন, ইন্সপেকশন বিভাগ এবং বিভিন্ন গুদাম রয়েছে।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় দপ্তরের ভবনগুলোর অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছিল। অনেক জায়গায় ছাদ ও সিলিং ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, ফ্লোর ভাঙাচোরা, দেয়ালে ফাটল, দরজা–জানালা নষ্ট এবং পুরোনো বৈদ্যুতিক লাইনের কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ করতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণ নিয়েও ছিল উদ্বেগ।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সিসিএস বেলাল হোসেন সরকার দপ্তরের সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরে তিনি রেলওয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) এবং পূর্বাঞ্চলের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম)সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দপ্তর পরিদর্শনে আমন্ত্রণ জানান এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এর পরই দপ্তরের সংস্কারকাজ শুরু হয়, যা বর্তমানে চলমান।
ঘটনার রাতে নিয়মিত টহলের সময় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য দপ্তরের পেছনের দিকে আগুনের ফুলকি দেখতে পান। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয় এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংস্কারকাজের সময় টিনের ওপর ওয়েল্ডিংয়ের ফুলকি অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এতে পূর্বের আইবি সেকশনের পেছনে রাখা কিছু পুরোনো কাগজপত্র আংশিকভাবে পুড়ে গেছে।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ক্রয়–১) মো. আরিফুজ্জামান শিকদারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন পর সিসিএস দপ্তরের সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় কর্মপরিবেশ উন্নত হবে এবং ভবিষ্যতে রেলওয়ের মালামাল ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও কার্যকর ও গতিশীল হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন