× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

৭ দিনের ছুটির ফাঁদে বেনাপোল

বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

বেনাপোল স্থলবন্দর। ছবিড : সংগৃহীত

বেনাপোল স্থলবন্দর। ছবিড : সংগৃহীত

শবেকদর, ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা ৭ দিন দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর ফলে স্থবির হয়ে পড়বে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দরের কার্যক্রম।

এদিকে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সীমিত আকারে কাস্টমস হাউসগুলোর আমদানি-রপ্তনি কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব রোর্ড (এনবিআর)। তবে শুধু ঈদের দিনে শুল্ক স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে। এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় গত সোমবার এ তথ্য জানানো হয়। তবে বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির কর্মকর্তা বলেছেন, আমাদের কর্মচারিরা কেউ ঈদের ছুটিতে কাজ করতে আগ্রহী না। সে ক্ষেত্রে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে ছুটির মধ্যে কাজ কতটুকু হবে সেটাই ভাববার বিষয়।

অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্ধের দিন আমাদেরও সীমিত আকারে খোলা রাখা হবে। তবে কেউ পণ্য খালাস নিতে চাইলে খালাস দেওয়া হবে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ৯০ ভাগই আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। মাত্র সাত দিনের এলসিতে পণ্য আনা যায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮১ কিলোমিটার। আড়াই ঘণ্টায় চলে আসে পেট্রাপোল বন্দরে। সে কারণে আমদানিকারকরা পণ্য আমদানির জন্য বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করে থাকেন। লম্বা ছুটিতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পড়বে বিরূপ প্রভাব। এমনিতেই বেনাপোল বন্দরে পণ্যজট লেগেই আছে। লম্বা ছুটির কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাঁচামালের সংকট দেখা দিতে পারে। সীমান্তের দুপাশের ট্রাকজট আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। তবে এ ছুটিতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে বন্ধ হয়ে যাবে বেনাপোল-পেট্রাপোলের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি। কাস্টম ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ বাড়িতে ঈদ করতে রওয়ানা দিবেন। তারপর সরকার ঈদের তিন দিন আগে পরে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখায় বন্দর থেকে কোন পণ্য খালাসও হবে না। অনেক আমদানিকারক ঈদের ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বাড়িতে যাবেন। তারা ঢাকা ফিরে না আসা পর্যন্ত কোনো পণ্যও খালাস নেবে না।

দুদেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস ও বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে টানা সোমবার (২৩ মার্চ) পর্যন্ত। সে কারণে সব মিলিয়ে ৭ দিন ছুটির ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে বেনাপোল বন্দর। আগামী মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম সচল হবে।

এদিকে টানা ছুটির কারণে সীমান্তের দুপাশের বন্দরে ট্রাকজট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। বেনাপোলের মতোই পেট্রাপোল বন্দরেও ট্রাকজট রয়েছে। বন্দরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বন্দরের ট্রাক টার্মিনাল, পেট্রাপোল বন্দর টার্মিনালে কয়েকশ পণ্যবোঝাই ট্রাক অপেক্ষা করছে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায়। আজ রোববার ও কাল সোমবার (১৫ ও ১৬ মার্চ) কিছু পণ্য বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করলেও দীর্ঘ ছুটির কারণে অনেক পণ্য পেট্রাপোল থেকে বেনাপোল বন্দরে ঢুকবে ছুটি শেষে।

বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শাখাওয়াত হোসেন জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারনে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক থাকবে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত। এ সময় একটু বেশি ভিড় হয়ে থাকে। সে কারণে ইমিগ্রেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন বলেন, ঈদের ছুটির মধ্যে বন্দর এলাকায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ও দুর্ঘটনা না ঘটে সে জন্য বিশেষ নজরদারি নেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সীমিত আকারে অন্যান্য কাস্টমস হাউসগুলোর ন্যায় বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর নির্দেশনা মোতাবেক এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুধু ঈদের দিনে শুল্ক স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে।

এনবিআরের নির্দেশনায় বলা হয়, দেশের আমদানি-রপ্তনি বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদের ছুটির দিনগুলোতে আমদানি-রপ্তনি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান রাখার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানান, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল থেকে ঈদের ছুটি হয়ে যাচ্ছে। ছুটিতে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে তবে কাস্টমসের সাথে সমন্বয় করে সীমিত আকারে খোলা থাকবে। কোনো আমদানিকারক পণ্য ডেলিভারি নিতে চাইলে দেওয়া হবে। ঈদের ছুটির মধ্যে বন্দরে যাতে কোনো ধরনের নাশকতামূলক বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা দিনে রাতে বন্দর এলাকায় টহল দিবে। পাশাপাশি বেনাপোল পোর্ট থানা কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি বলা হয়েছে। আগামী ২৪ মার্চ থকে বন্দরের কর্মতৎপরতা বাড়বে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!