রাঙামাটির দুর্গম রাজস্থলী উপজেলার ৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের কুটুরিয়া পাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ছড়ার ওপর নির্মিত এই সেতুটি এখন একপ্রকার মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পার হচ্ছেন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৪০ মিটার দীর্ঘ ও আড়াই মিটার প্রস্থের সেতুটির পাটাতনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ রেলিং ভেঙে গেছে এবং কংক্রিট খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই যুগ আগে নির্মিত এই সেতুটি ৬-৭ বছর আগে বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে এর অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। ইতোমধ্যে একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সেতুটির পূর্ব-দক্ষিণ পাশে একটি মাদ্রাসা ও ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম রয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ বাজার, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এই সেতু ব্যবহার করেন। সেতুটি ভেঙে গেলে বাঙ্গালহালিয়া বাজারসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কলেজশিক্ষার্থী মো. সাইফুল বলেন, প্রতিদিন ভয় নিয়ে এই সেতু পার হতে হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ জরুরি।
কৃষকরাও পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে এই সেতুই একমাত্র ভরসা। তবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
একজন কৃষক বলেন, সেতুটি ভেঙে গেলে আমাদের কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এদিকে সেতুর একাংশ ধসে পড়ায় স্থানীয়রা নিজেরাই বাঁশ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন। সরু ও নড়বড়ে এই সাঁকো দিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন। বর্ষা মৌসুমে এটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কাইয়ুম হোসেন মিরাজ বলেন, গত কয়েক বছরে সেতুটির অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে।
তিনি আরও বলেন, হাজারো মানুষের কথা বিবেচনা করে দ্রুত নতুন একটি সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
ইউপি চেয়ারম্যান আদোমং বলেন, কুটুরিয়া পাড়ার এই সেতুটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে এটি জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় মানুষ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি জানান, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন