× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

সুইপারের মা-হারা কনের বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

সুইপারের মা-হারা কনের বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি। ছবি : সংগৃহীত

সুইপারের মা-হারা কনের বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি। ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মা-হারা এক হরিজন (সুইপার) কনের বিয়েতে যোগ দিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জেলা প্রশাসকের এমন ব্যতিক্রমী ও উদার আচরণে মুগ্ধ হয়েছেন অনেকেই। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের এমন একজন কর্মকর্তার অপ্রত্যাশিত উপস্থিতিতে হরিজন সম্প্রদায়ের মধ্যে বয়ে যায় খুশির বন্যা। কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রণাম করেন।

হরিজন সম্প্রদায় দক্ষিণ এশিয়ার একটি অনগ্রসর ও দলিত জনগোষ্ঠী, যারা ঐতিহ্যগতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা সুইপারের পেশার সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে তাদের ‘মেথর’ বা ‘ডোম’ নামেও ডাকা হয়।

সেই হরিজন সম্প্রদায়ের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তার মানবিকতার প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা এভাবে অংশগ্রহণ করলে তা সমাজের তথাকথিত উঁচু-নিচু ভেদাভেদ দূর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে এবং সব পেশার মানুষের সমান মর্যাদার বার্তা দেয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ছিলেন কনে পক্ষের আমন্ত্রিত অতিথি। কনে প্রীতি রানী বাসফোরের পিতা রতন বাসফোর বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের গাজীপুর মহানগরের একজন কর্মী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কর্মরত।

কনের মা, স্বর্গীয় সীমা রানী বাসফোর, গাজীপুরের ডুয়েটে দীর্ঘদিন পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মেয়ে প্রীতি রানী বাসফোর বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

জেলা প্রশাসকের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এলাকাবাসী বলছেন, যখন কোনো উঁচুতলার মানুষ বা জনপ্রতিনিধি সামাজিক মর্যাদায় পিছিয়ে থাকা মানুষের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন, তখন তা সামাজিক সমতার বার্তা দেয়। 

এই প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক গাজীপুর বলেন, আমাদের সংবিধান অনুযায়ী ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে রাষ্ট্র সকলকেই সমান ভাবে আসীন করেছে। কাজেই আমরা সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে একত্রে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। গাজীপুরকে একটি সমতা ও ঐক্যের জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পিছনে আমরা কাজ করছি। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন আমাদের কর্তব্য, এ বার্তা সমাজের সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কোনো পেশাই অমর্যাদার না, অসম্মানের না, কম গুরুত্বপূর্ণ নয়; এ কথা আমরা বিশ্বাস করতে চাই ও সবাইকে করাতে চাই।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!