মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালের ৯ মে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুর ১২টায় গজারিয়া ইউনিয়নের গোসাইরচর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদের আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। গজারিয়ার ৯ মে গণহত্যা ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে সবাইকে কাজ করতে হবে। আপনাদের দাবিগুলো পূরণে আমি চেষ্টা করব। যাচাই-বাছাই শেষে তালিকাভুক্ত করার জন্যও আবেদন করব। এ ছাড়া আপনাদের পাশে আমি সবসময় থাকব। সরকারি সুবিধাগুলো যাতে আপনারা পান, সে বিষয়ে প্রশাসনকে বলে দেওয়া হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান, ওসি মো. হাসান আলী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সিদ্দিক উল্লাহ ফরিদ, বিশিষ্ট শিল্পপতি ফজলুল হক বকুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর গিয়াসউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম পিন্টুসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শহীদ পরিবারের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেশজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়লে গজারিয়াতেও পাকবাহিনী নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। বিশেষ করে ৯ মে সংঘটিত গণহত্যায় গজারিয়ার বহু নারী-পুরুষ শহীদ হন। গজারিয়া ইউনিয়নে মাত্র দুই ঘণ্টায় প্রায় ৩৬০ জন পাক হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন। বিশেষ করে এ ইউনিয়নের নয়ানগর, গোসাইরচর ও বলুরচর গ্রামের মানুষ বেশি শহীদ হন বলে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা জানান।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন