× UCB Sticker Card
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

জহিরুল ইসলাম, গাজীপুর

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ডাস্টবিন নির্মাণ দরপত্রে অনিয়ম

জহিরুল ইসলাম, গাজীপুর

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ডাস্টবিন নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নে ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান ও জমাদান সম্পন্ন হলেও মূল্যায়নের সময় বৈধ দরদাতাদের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকা পছন্দের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ওই কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ অপচয় হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট বা ই-জিপি সিস্টেমটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) থেকে অটোমেটিক পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রকল্পটির দরপত্র প্রক্রিয়াও ই-জিপি সিস্টেমে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি মূল্যায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে কন্ট্রাক্ট প্রসিডিউর রুলসের (সিপিআর) নিয়ম লঙ্ঘন করে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ৫নং জোনে ডাস্টবিন নির্মাণের জন্য একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। দুই কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রকল্পটির টেন্ডার আইডি নম্বর ১২৬৬৩৩৭। গত ২৪ মে ওপেন টেন্ডার মেথডে ৮টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশ নেয়। ডিসকাউন্ট ও প্রভিশনাল সাম যুক্ত করে আটটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত দর ছিল- সানফাই কনস্ট্রাকশন ২ কোটি ৩ লাখ ২২ হাজার ৮৮৭ টাকা, শাহরিশ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লি. ২ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ২৭৯ টাকা, মেসার্স নাহার করপোরেশন ২ কোটি ১০ লাখ ৪৩ হাজার ৭০৫ টাকা, জীবন কনস্ট্রাকশন ২ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৪ টাকা, মেসার্স দেওয়ান ট্রেডার্স ২ কোটি ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৭ টাকা, মেসার্স আব্দুর রহমান শাহ এন্টারপ্রাইজ ২ কোটি ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৩ টাকা, এম নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫ হাজার ৫৮৮ টাকা এবং আলপাইন ট্রেডার্স।

দরপত্রের শর্তানুযায়ী, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ খাতে সর্বনিম্ন তিন বছরের অভিজ্ঞতা, বার্ষিক গড় টার্নওভার ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি ও কমপক্ষে ৩৮ লাখ ২৮ হাজার টাকার লিকুইড অ্যাসেট থাকা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে কমপক্ষে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার সমমূল্যের ডাস্টবিন নির্মাণকাজ সফলভাবে শেষ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী, কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যাতে অস্বাভাবিক কম দর দিয়ে কাজের মান নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য প্রতিটি প্রকল্পের সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরসীমা বা স্ট্যান্ডার্ড লোয়ার থ্রেশহোল্ড (এসএলটি) নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটিতে দাপ্তরিক প্রাক্কলন ছিল ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। দরদাতাদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা সূচক সমন্বয় করে নির্ধারিত সিগনিফিক্যান্টলি লো প্রাইজড টেন্ডার (এসএলটি) ২ কোটি ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২২৪ টাকা। পিপিআর আইন অনুযায়ী, ২ কোটি ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২২৪ টাকার নিচে দর দিলে কারিগরি যোগ্যতা যতই থাকুক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নন-রেসপনসিভ ঘোষণা করতে হবে। এখানে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল সানফাই কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত দর ছিল ২ কোটি ৩ লাখ ২২ হাজার ৮৮৭ টাকা।

দরপত্র মূল্যায়ন অনুযায়ী, সর্বনিম্ন দরদাতা সানফাই কনস্ট্রাকশনের প্রাথমিক ও কারিগরি কাগজপত্র সম্পূর্ণ বৈধ ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির দর দাপ্তরিক প্রাক্কলনের চেয়ে কম যা এসএলটি থেকে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা কম হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সানফাই কনস্ট্রাকশনকে নন-রেসপনসিভ ঘোষণা করে টেন্ডার থেকে বাতিল করা হয়। অতিরিক্ত কম দরে কাজ দিলে নির্মাণ কাজের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে। ফলে বাকি থাকে ৭টি প্রতিষ্ঠান। ওই সাত প্রতিষ্ঠানের দর যাচাই করে এম নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ দাপ্তরিক প্রাক্কলনের চেয়ে ৭.৭২ শতাংশ বেশি দর প্রস্তাব করায় প্রতিষ্ঠানটিও এসএলটি সীমা অতিক্রম করায় বাদ পড়ে। বাকি ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাহরিশ ইঞ্জিনিয়ারিং, নাহার করপোরেশন, জীবন কনস্ট্রাকশন, দেওয়ান ট্রেডার্স, আবদুর রহমান শাহ এন্টারপ্রাইজ, আলপাইন ট্রেডার্স এসএলটি সীমার মধ্যে দাপ্তরিক প্রাক্কলনের চেয়ে কম দর দেওয়ায় বৈধ দরদাতা তালিকায় স্থান পায়।

বৈধ ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা শাহরিশ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লি. প্রতিষ্ঠানটির দর ছিল ২ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ২৭৯ টাকা। এ দর দাপ্তরিক প্রাক্কলনের চেয়ে ১০.২৯ শতাংশ কম, কিন্তু এসএলটির ওপরে। পিপিআর অনুযায়ী, এসএলটির ঊর্ধ্বে নয় এমন দরদাতাদের মধ্য থেকে সর্বনিম্ন দরদাতাকে ওয়ার্ক অর্ডারের জন্য সুপারিশ করতে হবে। পিপিআর অনুযায়ী, সর্বনিম্ন দরদাতা শাহরিশ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড কাজের সুপারিশযোগ্য এবং কাজটি পাওয়ার কথা। কিন্তু নিয়ম লঙ্ঘন করে গত ৮ জুন কর্তৃপক্ষ তালিকার সর্বনিম্ন দরদাতা শাহরিশ ইঞ্জিনিয়ারিংকে বাদ দিয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকা মেসার্স আব্দুর রহমান এন্টারপ্রাইজ বরাবর কার্যাদেশ অনুমোদন করে।

শাহরিশ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (সর্বনিম্ন দরদাতা) চেয়ে আব্দুর রহমান শাহ এন্টারপ্রাইজ ২ লাখ ৫১ হাজার ১৯৪ টাকা বেশি দর দিয়েছে। এতে সরকারের মূল বাজেট থেকে বেশি খরচ হবে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে থাকা মেসার্স আব্দুর রহমান শাহ এন্টারপ্রাইজ চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। তিনি যখন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে কর্মরত ছিলেন তখন এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কাজ পাইয়ে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্বপরিচয় ও সখ্যের সুযোগে তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে আব্দুর রহমান শাহ এন্টারপ্রাইজকে প্রকল্পটি পাইয়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের ৫নং জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু হানিফ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, এই টেন্ডার প্রক্রিয়া চলার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। পরে এ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠালেও মেলেনি উত্তর।

Link copied!