বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাত ১টায় বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বেলজিয়াম ও মিশর। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘জি’-এর দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হবে।
গত এক দশকে ইউরোপের সবচেয়ে ধারাবাহিক জাতীয় দলগুলোর একটি ছিল বেলজিয়াম। ২০১৪ সাল থেকে প্রতিটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করে তারা, যা এখন পর্যন্ত দেশটির ইতিহাসে সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য।
এ ছাড়া ইউরো ২০১৬ ও ইউরো ২০২০-এও অনেকদূর পর্যন্ত এগিয়েছিল বেলজিয়াম। এক সময় দীর্ঘদিন ধরে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও দখল করে রেখেছিল রেড ডেভিলসরা।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে বেলজিয়ামকে একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের কেন্দ্রীয় দল থেকে সরে এসে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলা নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে তাদের।
উয়েফা অঞ্চলের বাছাইপর্বে গ্রুপ ‘জে’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে বেলজিয়াম। সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ছন্দেও রয়েছে দলটি। বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রীতি ম্যাচে তারা ক্রোয়েশিয়াকে ২-০ এবং তিউনিসিয়াকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে।
তবে লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনাদের বয়স বাড়ায় ভক্তদের বাড়তি নজর থাকবে চার্লস ডি কেটেলারে, লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড কিংবা জেরেমি ডকুর মতো তরুণ ফুটবলারদের উপর।
অন্যদিকে, আফ্রিকার অন্যতম সফল ও ঐতিহ্যবাহী দল মিশর। আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের রেকর্ড সাতবারের চ্যাম্পিয়ন তারা। এ ছাড়া ১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল দেশটি।
বর্তমান মিশর দল এখনও অনেকটাই নির্ভরশীল দেশীয় প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দের ওপর। তবে দলের সবচেয়ে বড় তারকা নিঃসন্দেহে বিশ্ব ফুটবলের পরিচিত মুখ মোহাম্মদ সালাহ।
আফ্রিকান অঞ্চলের (সিএএফ) বাছাইপর্বে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষস্থান অর্জন করে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে মিশর। দশ ম্যাচে অপরাজিত থাকা দলটি আটটি জয় ও দুটি ড্র করে। পুরো বাছাইপর্বে তাদের গোল ব্যবধান ছিল +১৮।
এই সাফল্যের মাধ্যমে ২০২২ বিশ্বকাপে অনুপস্থিত থাকার পর আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে মিশর।
এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রজন্মের বেলজিয়াম নাকি সালাহর নেতৃত্বাধীন মিশর বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে জয় দিয়ে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন