ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ মে, ২০২৫

ছাত্রলীগের নেতাই হলেন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ৮, ২০২৫, ০৯:২১ এএম
ছবি- সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ শাসনামলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদকের পদে ছিলেন সাকিব আল-হাসান রাফি। দলটির ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবার ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক হয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানা শহরের মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজে।

শুধু রাফি নন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদেও রয়েছে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা। এ নিয়ে এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।

বুধবার (৭ মে) বিকেলে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন একই কলেজের পদবঞ্চিতরা। সংবাদ সম্মেলন শেষে এর প্রতিবাদে সদ্যঘোষিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি রাইসুল ইসলাম রুপুসহ দুজন পদত্যাগ করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৬ মে) পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী ও সদস্য সচিব জাকারিয়া আহম্মেদ সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে রবিউল ইসলামকে সভাপতি ও আসিবুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের ১০ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করা হয়। এরপরই শুরু হয় কমিটি নিয়ে বিতর্ক। 

ফেসবুকে ছড়িয়ে পরা বেশকিছু ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বর্তমান ছাত্রদলের কমিটিতে পদ পাওয়া রবিউল নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতি ও তাদের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তবে তার কোনো পদ ছিল না। সাধারণ সম্পাদক আসিবুল হক কখনো ছাত্রলীগ কিংবা ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তবে ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কলেজ ছাত্রলীগের কমিটিতে সাকিব আল-হাসান রাফি ছিলেন ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক। ৬ মে প্রকাশিত ছাত্রদলের কলেজ কমিটিতেও প্রচার সম্পাদকের পদ পেয়েছেন তিনি।

কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাফসান আহম্মেদ রাকিব ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‌‘মজার ব্যাপার হলো একজন ছোট ভাই ছাত্রলীগে যে পোস্টে ছিল, ছাত্রদলেও সেই পোস্টেই আছে—শুধু নামটা বদলেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া বর্তমান কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, কখনো ছাত্রলীগ করিনি। তবে যে ছবিটি ভাইরাল হয়েছে ওইদিন আমাকে ডেকে নিয়ে প্রোগ্রাম করিয়েছে ছাত্রলীগ।’

কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ও ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক সাকিব আল-হাসান রাফি বলেন, ‘আমার পরিবার এবং আমি সবসময় বিএনপি করে আসছি। আমি যদি এই কলেজে লেখাপড়া করি তাহলে ছাত্রলীগের কমিটিতে আমার নাম থাকতে হবে—এ কথা বলে জোর করে তখনকার ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সম্পাদক আমার নাম রাখে। কিন্তু আমি কখনো ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করিনি। আমি ছাত্রদলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী।’

এ বিষয়ে জানতে মহিপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি তানজিল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।