ঢাকা সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

ভোটের উত্তাপে সরগরম বাগেরহাট

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১১:০৭ এএম
জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়, বাগেরহাট। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বাগেরহাটে নির্বাচনি উত্তাপ। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেটে জমে উঠেছে প্রচার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। অন্যদিকে ভোটাররা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

বাগেরহাট জেলায় মোট ৪টি সংসদীয় আসনে ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীদের পাশাপাশি একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ভোটের রাজনীতি বেশ জমে উঠেছে। নির্বাচনি প্রচার চলাকালে বিভিন্ন সময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনি অফিস দখল ও জামায়াতে ইসলামীর প্রচারের বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বাগেরহাটে মোট ৫৪৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৮৬টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২২৩টি কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ১৩৮টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে বিবেচিত। ফলে পুরো জেলাজুড়েই বিরাজ করছে নির্বাচনি টানটান উত্তেজনা।

জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৬১ হাজার ১১২। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ লাখ ৮২ হাজার ৭৩৯ জন, নারী ভোটার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৪ জন।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মো. বাতেন জানান, জেলার মোট ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৮৬টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২২৩টি মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৩৮টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান। কেন্দ্রের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সব মিলিয়ে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, বাগেরহাটে ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এখন অপেক্ষা ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসবমুখর নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার।