ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

লামায় সিএনজি ছিনতাই ও চালক হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার

লামা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর সিএনজি ছিনতাই ও চালককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে লামা থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইকৃত সিএনজি অটোরিকশা ও একটি মোবাইল ফোন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার ছোলারভাঙা হুজুরবাড়ি এলাকার মো. ফারুকের ছেলে আলাউদ্দিন (২৬), কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দিগর পানখালী এলাকার মৃত সিরাজ আলমের ছেলে ও মামলার মূলহোতা মো. শওকত ওরফে শহীদ (৩৩) এবং কক্সবাজার সদরের চৌফলদণ্ডী এলাকার বাসিন্দা, বর্তমানে টেকনাফের হাজমপাড়ায় বসবাসকারী আবুল কালামের ছেলে রমজান আলী (৩০)।

পুলিশ জানায়, গত ২০ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চারজন ব্যক্তি যাত্রীবেশে সিএনজি চালক নুরু আলমের গাড়ি ভাড়া নেন। লামা-ফাইতং সড়কের বদরটিলা এলাকায় পৌঁছার পর পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা চালককে গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। পরে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বেদম মারধর এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। এরপর সিএনজি, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত নুরু আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী নুরু আলম বাদী হয়ে লামা থানায় একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পান এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়া। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ও থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়ার নেতৃত্বে এএসআই প্রকাশ ঘোষসহ একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে।

গত ৬ জুলাই বরগুনা সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন। পরদিন ৭ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকা এলাকা থেকে মামলার মূলহোতা শওকত ওরফে শহীদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৮ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফে অভিযান চালিয়ে রমজান আলীকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকার একটি বাড়ির উঠান থেকে ছিনতাইকৃত সিএনজি উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়া জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের ৯ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে আলাউদ্দিন ও রমজান আলী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন সহযোগীর নামও প্রকাশ করেন।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, মামলার পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তও চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ মে রাতে বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া-বানিয়ারছড়া সড়কের বদরটিলা এলাকায় যাত্রীবেশে ওঠা দুর্বৃত্তরা সিএনজি চালক নুরু আলমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের তৎপরতায় দীর্ঘ চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।