দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ছররা গুলি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন দিল্লি পুলিশের এক ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি)। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সরকারি নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিসিপির নির্দেশে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) এক ডেপুটি কমান্ড্যান্ট দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অস্ত্র থেকে ৫৫ রাউন্ড নন-ইলেকট্রিক্যাল শেল, ১৫ রাউন্ড ইলেকট্রিক্যাল শেল, ৫টি টিয়ার স্মোক গ্রেনেড এবং ছররা গুলিভর্তি ব্যালিস্টিক কার্তুজসহ ২ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করেন।
এর আগে, ২১ জুলাই প্রকাশিত দ্য হিন্দু-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই অভিযানে ছোড়া ছররা গুলিতে আহত দুজনকে সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী সাহিল লোচাবের ডান চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। তার পরিবারের দাবি, চোখের মণি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ছররা গুলি ও শক-ব্যাটন সিআরপিএফের অধীনস্থ র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের নিয়মিত দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের অংশ। ২০ জুলাই তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির ডাকা আন্দোলন ঘিরে দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি আরএএফ সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছিল।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে ছররা গুলি ব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশের অতিরিক্ত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের করা একাধিক আবেদনের শুনানি বর্তমানে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে চলছে।
২৭ জুলাই অবসরপ্রাপ্ত ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর স্পেশাল ডিরেক্টর যশবর্ধন আজাদ এবং ছররা গুলিতে আহত আরও দুজন একজন শিল্পী ও একজন পেশাজীবী যৌথভাবে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।
আবেদনে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেসামরিক জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণে পাম্প অ্যাকশন রাইফেল বা প্রজেক্টাইল অ্যাকশন গান থেকে ধাতব বা আংশিক ধাতব পেলেট ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ২০ জুলাইয়ের ঘটনায় আহতদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ, উন্নত চিকিৎসা, পরিচর্যা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়েছে।


