ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স, নেপথ্যে কী?

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ১১:২০ এএম
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে এবার বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘটেছে কূটনীতিকদের ওয়াকআউটের মতো ঘটনা। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সোমবার (২৭ জুলাই) রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিষয়ক বৈঠক চলছিল। বৈঠকে ফ্রান্সের প্রতিনিধি বক্তব্য দিতে উঠলে সেখান থেকে ওয়াকআউট করেন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা।

মাত্র কদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের কর্মকর্তারা অনলাইনে বাক্যবিনিময় করেন। আর সেই বিবাদের সূত্রপাত ঘটেছিল জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ককে ঘিরে। জাতিসংঘের এই শীর্ষ কর্মকর্তার চার বছরের মেয়াদ নবায়নের বিপক্ষে ভোট দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে বিবাদে জড়ায় ওয়াশিংটন ও প্যারিস।

জেনেভায় শনিবার ফ্রান্সের জাতিসংঘ মিশন এক্সে লিখেছিল, যুক্তরাষ্ট্র আর ‘মানবাধিকারের আলোকবর্তিকা’ নয় এবং এ বিষয়ে তারা উত্তর কোরিয়া, নিকারাগুয়া, মালি ও রাশিয়ার মতো দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।

এর জবাবে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এক্স-এ লেখেন, ফ্রান্স এমন একজন মানবাধিকার প্রধানের পক্ষে ভোট দিয়েছে, যিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মতো স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে নিয়মিত উপদেশ দিয়ে থাকেন। অথচ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ নিপীড়কদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখেন।

ওয়াকআউটের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প প্রতিনিধি ড্যান নেগ্রিয়া নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, ফ্রান্স তাদের ‘অহংকারী ও অসম্মানজনক ভাষা’ পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত মার্কিন প্রতিনিধিদল এভাবে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যেতে থাকবে।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফঁ তার বক্তব্যে ওয়াকআউটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, ফ্রান্স জাতিসংঘের স্বাধীনতা এবং কার্যকরভাবে কাজ করার সক্ষমতা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

ভলকার তুর্ক, যিনি ফিলিস্তিন ও ইরানে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সমালোচনা করেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ১৪৪ ভোটে পুনর্নিয়োগ পান। তার বিপক্ষে ভোট পড়ে ১০টি এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০২৫ সাল থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়ন কমিয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের কয়েক ডজন সংস্থা ও কাঠামো থেকে সরে এসেছে। এছাড়া তুর্কের মেয়াদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পুনর্বিবেচনারও হুমকি দিয়েছিল।

এদিকে ন্যাটোতে প্রতিরক্ষা ব্যয়, বাণিজ্যনীতি এবং ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকিকে কেন্দ্র করেও ওয়াশিংটন ও প্যারিসের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

এছাড়া ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ট্রাম্পের অসন্তোষের মুখে পড়েছে।