ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলা, শিশুসহ নিহত অন্তত ৩০

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাদুনা রাজ্যের এক গ্রামে বন্দুকধারীদের গুলিবর্ষণে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন বাসিন্দা।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুলাই) বাসিন্দাদের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

হামলায় আহতদের সহায়তায় এগিয়ে আসা স্থানীয় বাসিন্দা রাফায়েল জোশুয়া জানান, নিহত ৩০ জনের মরদেহ নিকটবর্তী একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনরা তাদের দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গ্রামপ্রধানের সচিব ডোগন রানা রয়টার্সকে বলেন, বন্দুকধারীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে চালাতে থাকে এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিতে দিতে এলাকায় হামলা চালায়। নিহতদের মধ্যে আটজন শিশু ছিল। আরও চারজন আহত হয়েছেন।

নাগরিক সমাজ গোষ্ঠী সাউদার্ন কাডুনা পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান ডেরেক ক্রিস্টোফার জানান, রোববার গভীর রাতে কাডুনা রাজ্যের কাউরা এলাকার নারিডন গ্রামে এই নৃশংস হামলার ঘটনাটি ঘটে।

বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্রিস্টোফার বলেন, ‘গত বছর ঠিক এই সময়েই একই গ্রামে হামলা চালিয়েছিল সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। ঘটনাগুলো দেখে মনে হচ্ছে সরকার সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার ইচ্ছা পুরোপুরি ত্যাগ করেছে। আমি জানি না এই অসহায় মানুষদের পক্ষে লড়াই করার মতো আর কে বাকি আছে।’

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কাদুনা রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনার সুলে শু'আইবু জানান, এই হামলা সম্পর্কে তাকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু অবহিত করা হয়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেলেও নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষ প্রায়শই এ ধরনের হামলার খবর স্বীকার করতে বিলম্ব করে থাকে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি।

স্থানীয়ভাবে ‘দস্যু’ হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-মধ্য অঞ্চলে মুক্তিপণের জন্য নিয়মিত হামলা, ডাকাতি ও গণঅপহরণ চালিয়ে আসছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এদের অনেকেই মূলত আগে পশুপালন করতেন। সম্পদের অধিকার ও জমি নিয়ে কৃষক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে অস্ত্র তুলে নিয়েছেন তারা।

এ ছাাড়াও দেশটিতে উগ্রপন্থি গোষ্ঠ ‘বোকো হারাম’ ও এর বিচ্ছিন্ন উপদল ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি) গত কয়েক বছর ধরে রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে। গৃহযুদ্ধ ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির জেরে নাইজেরিয়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক রোষানলেও পড়েছে।

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, দেশটিতে বারবার আক্রান্ত হওয়া খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে নাইজেরীয় সরকার। এমন টানাপোড়েনের মাঝেই গত বছর ২৫ ডিসেম্বর নাইজেরিয়ার ভূখণ্ডে কথিত আইএস সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র।