ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অ্যাসল্ট রাইফেল থেকে বাতাসে গুলি চালানোর অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে লাঠিচার্জ এবং গত ২০ জুলাই রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংসদের দিকে মিছিল করা হাজারো বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গত শনিবার বিহারের পূর্বাঞ্চলীয় শহর সিওয়ানে দাঙ্গা প্রতিরোধী পোশাক পরা এক পুলিশ সদস্য বিক্ষোভকারীদের একটি দলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। একপর্যায়ে তিনি তাদের দিকে একে-৪৭ রাইফেল তাক করে বাতাসে অন্তত তিনটি গুলি ছোড়েন।
বিহার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নীলেশ কুমার জানান, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। তিনি বলেন, গোয়েন্দা ইউনিটের এক কনস্টেবলকে ওই অ্যাসল্ট রাইফেলটি দেওয়া হয়েছিল। সাধারণত ‘ভয়ংকর ও দুর্ধর্ষ অপরাধীদের’ মোকাবিলায় এই ইউনিট কাজ করে।
পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল নীলেশ কুমার সোমবার রয়টার্সকে বলেন, কনস্টেবল একে-৪৭ রাইফেলটি ভুলভাবে ব্যবহার করেছেন। কোনোভাবেই এর যৌক্তিকতা নেই। যেহেতু বিক্ষোভকারীরা ছাত্র ছিল, তাই এমন অস্ত্র ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন ছিল না। এ কারণেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সংসদেও তীব্র সমালোচনা হয়েছে। বিরোধী কংগ্রেস দলের প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, আমাদের ইতিহাসে গণতন্ত্রের ওপর এটি অন্যতম গুরুতর আঘাত। এর আগে কখনো আওয়াজ তোলার জন্য ছাত্রদের মারধর করা হয়নি, টেনে নিয়ে যাওয়া হয়নি এবং অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিহারে ছাত্রদের বিরুদ্ধে একে-৪৭ ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে। এর জন্য দায়ীরা জবাবদিহিতা থেকে রেহাই পাবেন না।
বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যে সংসদের উভয় কক্ষ মুলতবি হয়ে যায়। তবে এ বিষয়ে সরকারি মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন অনেকে। গত শনিবার এক বক্তব্যে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া বলেন, ‘এটা বলা অত্যুক্তি হবে না যে ভারতে ভিন্নমত প্রকাশের জন্য জনপরিসর সংকুচিত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, নিজের মতামত প্রকাশ করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার নাগরিকদের মৌলিক স্বাধীনতা।
সূত্র : দ্য প্রিন্ট

