যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও অস্ত্র পাচারের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমা পাওয়ার আট মাস পর নিজ দেশ হন্ডুরাসে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ।
২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হার্নান্দেজ রোববার একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বিমানে করে পালমেরোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। রাজধানী তেগুসিগালপা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের এই বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান তার মা, স্ত্রী আনা গার্সিয়া, মেয়ে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য।
দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরের রানওয়েতে পরিবারের সঙ্গে হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করেন হার্নান্দেজ। পরে সেখানে উপস্থিত শত শত সমর্থকের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর তিনি আরেকটি ফ্লাইটে রাজধানী তেগুসিগালপার তোনকোনতিন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন।
আগামী ৩ আগস্ট জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ রয়েছে। তবে এর আগে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত থাকায় দেশে ফিরেই তাকে আটক করা হয়নি। হার্নান্দেজ জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বাতিলের জন্য তিনি আদালতের শরণাপন্ন হবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে আসার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। পরিবারকে আবার দেখতে পারার অপেক্ষায় ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে কারাবাসের অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত কঠিন উল্লেখ করে বলেন, এমন পরিস্থিতি তিনি তার শত্রুর জন্যও কামনা করবেন না।
হার্নান্দেজকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে হন্ডুরাসে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই মাস পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। পরে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত মাদক ও অস্ত্র পাচারের মামলায় তাকে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। যদিও পুরো সময়জুড়েই তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
ট্রাম্পের ক্ষমা ঘোষণাকে ঘিরে ২০২৫ সালের শেষদিকে হন্ডুরাসের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকদের একাংশ এটিকে দেশটির রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে দেখলেও, ওই ক্ষমা হন্ডুরাসে হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি।
এদিকে ‘প্যানডোরা-২’ নামে পরিচিত একটি দুর্নীতির তদন্তে হার্নান্দেজসহ কয়েকজন সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলারের সরকারি অর্থ রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থের একটি অংশ হার্নান্দেজের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয় করা হয়েছিল।
তবে একই মামলায় অভিযুক্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট পোর্ফিরিও লোবো এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী উইলফ্রেডো সেরাতোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ইতোমধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি হার্নান্দেজ। যদিও আপাতত সেটি তার অগ্রাধিকার নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে দলের নতুন নেতৃত্বকে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলেও মন্তব্য করেছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।


