ভোলা কোস্টগার্ডের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর এবং শরিয়তপুরের গোসাইরহাট এলাকা থেকে জেলেদের বিভিন্ন প্রজাতির বৈধ মাছ লুট করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর আগে ট্রলার থেকে মাছ লুটপাটের বেশ কিছু ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযানের সময় জেলেদের সঙ্গে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে কোস্টগার্ড সদস্যদের মাছ লুটের প্রতিবাদ করলে তাদের গুলি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে কোস্টগার্ডের এই অভিযান সম্পর্কে মৎস্য অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।
বরিশালের হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উপজেলার ধুলখোলা গ্রামের মেঘনার শাখা নদীর পাড়ের মাছঘাটের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন মাঝি, জামাল গাজী, আব্দুল হক চৌকিদার, ছাত্তার দপ্তরী, রহমান সরদার, কবির রাঢ়ী, মামুন মাঝি, জসিম তালুকদার, মাসুম সরদার ও জসিম সরদার উল্লেখ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকা ছাড়া চর দুর্গাপুর লঞ্চঘাটসংলগ্ন নদীর মাঝখানে গত ৯ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনটি স্পিডবোটে এসে ভোলা জেলা থেকে আসা কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ট্রলার ঘিরে ধরে।
কোস্টগার্ড কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মৎস্য কর্মকর্তা কিংবা তাদের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই ট্রলারে থাকা প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৮টি ব্যারেলে সংরক্ষিত বৈধ পোয়া, ইলিশ, আইড়, চিংড়িসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ ডাকাতির মতো লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বরিশালের কোস্টগার্ড ব্যতীত ভোলা থেকে আসা সদস্যদের এই অভিযান অন্যায়। মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় কোস্টগার্ড সদস্যরা ট্রলারে থাকা কর্মচারী আরিফ সরদার, ফয়সাল, হাশেম, আনোয়ার, লিটন, ড্যানি ও মাইদুলসহ অন্তত ১০ জনকে মারধর করে এবং একটি ট্রলারসহ তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও স্থানীয় কোদালপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মৎস্য ব্যবসায়ী মো. সুরুজ, সবুজ বেপারী, বাবুল হাওলাদার ও দাদন মীর অনুরূপ অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ভোলা জেলার কোস্টগার্ড দপ্তরের কয়েকজন সদস্য একাধিকবার গোসাইরহাট উপজেলার মেঘনা নদীতে মাছ পরিবহনের সময় অতর্কিত হামলা চালিয়ে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। গত ৪ মার্চ বেলা ১১টার দিকে মাছ ব্যবসায়ীরা বৈধ ইলিশ, চিংড়ি, আইড়, পাঙাশ ও পোয়া মাছ পরিবহন করে কোদালপুর ঘাটে যাচ্ছিলেন।
পথিমধ্যে খেজুরতলা কুচাইপট্টি এলাকায় তিনটি স্পিডবোটে থাকা কোস্টগার্ড সদস্যরা ট্রলারটিতে হামলা চালায়। এ সময় ট্রলারে কোনো অবৈধ জাটকা ইলিশ নেই বলে জানালেও সদস্যরা তা উপেক্ষা করে দ্রুত মাছগুলো তাদের স্পিডবোটে তুলে চাঁদপুরের দিকে নিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, অভিযানের সময় কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে তাদের গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলেন, কোস্টগার্ডের অসাধু সদস্যদের কারণে তারা বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। তারা জানান, যদি কোনো অবৈধ মাছ পরিবহন হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনের যেকোনো ব্যবস্থা তারা মেনে নেবেন। তবে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতি ছাড়া অভিযান পরিচালনা না করার দাবি তোলেন।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগের অনুলিপি কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, নৌ-পুলিশ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইলিয়াস সিকদার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযোগগুলো কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি তদন্ত করছে।’
এ বিষয়ে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আরিফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সংস্থাটির মিডিয়া সেলে যোগাযোগ করলে এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করলেও নিজের পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং অভিযানের তথ্য হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।

-20260401173833.webp)

