ঢাকা রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

খালেদা জিয়ার দোয়া কর্মসূচি উপেক্ষা করে সালাম মৃধাকে সংবর্ধনা

বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৭:৫৭ পিএম
সালাম মৃধাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাদুর খান গত শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ঘোষিত কেন্দ্রীয় দোয়া কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা সালাম মৃধাকে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা দিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

চলতি বছরের ৯ মার্চ দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সালাম মৃধাকে বিএনপি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু গত ১৭ নভেম্বর হঠাৎ করেই তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

এর মাত্র ১১ দিনের মাথায়, যেদিন সারা দেশে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মসজিদে মসজিদে দোয়ার আয়োজন করেছে বিএনপি—সেদিনই সোহেল শিকদার ও বাহাদুর খান বহিষ্কৃত সালাম মৃধাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন।

জানা গেছে, অতীতে সালাম মৃধা আহ্বায়ক এবং সোহেল শিকদার সদস্যসচিব থাকাকালীন এই দুই নেতা মিলে ইউনিয়ন বিএনপির ভেতরে চাঁদাবাজি, দলীয় পদ-পদবি বাণিজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। সালাম মৃধার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর থেকে সোহেল শিকদার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ‘যেদিন দেশনেত্রীর জন্য দোয়া হচ্ছে, সেদিন বহিষ্কৃত একজন নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়া মানে দলের প্রতি, নেত্রীর প্রতি এবং তৃণমূলের প্রতি চরম অসম্মান। এটা শুধু শৃঙ্খলা ভঙ্গ নয়, দলের ভাবমূর্তি ধ্বংসের একটি সুকৌশল।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘বিএনপির মতো একটি বড় দলের ভেতরে এ ধরনের বিদ্রোহ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যারা কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে বহিষ্কৃত নেতাকে সংবর্ধনা দিচ্ছেন, তারা আসলে দলের ভেতরে গুটিকয়েক স্বার্থান্বেষী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। এটা বিএনপির জন্য আত্মঘাতী। যদি দ্রুত এদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে তৃণমূলের হতাশা আরও বাড়বে এবং দলের ঐক্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বিশ্লেষক সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘সোহেল শিকদার ও সালাম মৃধার এই কাণ্ড স্পষ্ট করে দেয় যে, তারা দলের চেয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত ক্ষমতা ও আর্থিক স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেন। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার এই সংকটময় মুহূর্তে দল যখন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থনায় মগ্ন, তখন এরা যা করলেন তা কেবল বিদ্রোহ নয়, দলের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার পর নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সোহেল শিকদার ও বাহাদুর খানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তৃণমূলের দাবি, দ্রুত এদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে বিএনপির বাকেরগঞ্জ অঞ্চলে সাংগঠনিক ভিত্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।

বিএনপির বরিশাল জেলা কমিটির একজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে কেন্দ্রের নজরে এসেছে এবং শিগগিরই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।