ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইউপি সচিবের নামে জমি দখল ও কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ০৩:২৫ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) আবদুল করিম বর্তমানে স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন।

স্কুলশিক্ষক থেকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আবদুল করিমের নামে এলাকায় জমি দখল, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল ও কোটি কোটি টাকার অঢেল সম্পদের অভিযোগ উঠেছে।

ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কচিয়া ইউনিয়ন চকঢোষ গ্রামের মৃত আবদুল বারেক মাতবরের ছেলে আবদুল করিম ১০ ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুল করিম প্রথমে কুঞ্জের হাট বাজার সংলগ্ন একটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০১ সালে সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সুপারিশে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে নিয়োগ পান।

এরপর থেকে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় বিতর্কিত হয়ে ওঠেন।

স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদপুর ইউপি সচিব থাকাকালে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতির দায়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এ ছাড়া কুঞ্জের হাটবাজারে তার মালিকানাধীন প্রায় ১০-১২টি দোকান রয়েছে, যার প্রতিটি দোকানের জমির মূল্য ৬০-৭০ লাখ টাকা। স্থানীয় মাদ্রাসাসহ ৩২ শতাংশ জমি ভুয়া দলিল দেখিয়ে দখল করার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, আবদুল করিম দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ ও অসহায় মানুষের জমি দখল করে নানা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।

সাবেক সেনা সদস্য শাহে আলম ও মতিন গার্মেন্টসের মালিক মতিন অভিযোগ করেন, জোরপূর্বক উচ্ছেদের পাশাপাশি ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল করিম বলেন, কোনো ভুয়া কাগজপত্র তৈরি বা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি শুধু প্রয়োজনে মানুষকে জায়গা ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছি।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা প্রশাসনিক তদন্ত এবং আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের জমি দখল ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রকৃত চিত্র উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।