ভোলার মনপুরায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আলাউদ্দিন শিকদার (৪৭) নামে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাসা থেকে রোগী দেখার সময় তাকে হাতেনাতে আটক করে মনপুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
প্রেসক্রিপশন সূত্রে জানা যায়, আলাউদ্দিন শিকদার নিজেকে এমবিবিএস চিকিৎসক এবং মেডিসিন, চর্ম ও যৌন রোগের বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখে আসছিলেন।
রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে তিনি বিভিন্ন ভুয়া ডিগ্রির নাম ব্যবহার করলেও চিকিৎসকদের সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের কোনো নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতেন না। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নিবন্ধন-সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে মনপুরা নৌবাহিনী ও সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সময় ভুয়া চিকিৎসক আলাউদ্দিন শিকদারকে আটক করা হয়। পরে বিষয়টি মনপুরা থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঢাকার একজন চিকিৎসকের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখে আসছিলেন। আটক আলাউদ্দিন শিকদার চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর মাদ্রাজ ইউনিয়নের মৃত কয়ছরের ছেলে।
তিনি দুই বছর ধরে চর মোজাম্মেল, মনপুরা ও চরকলাতলি এলাকায় চেম্বার খুলে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার নামে ২০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল বলেন, ভুয়া চিকিৎসকের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সচেতন থাকা জরুরি। ভুয়া চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্যসেবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মনপুরা থানার এসআই নয়ন জানান, রাতে ফোনকলের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুয়া চিকিৎসক আলাউদ্দিন শিকদারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।


