হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। দেবী সরস্বতীকে বিদ্যা, জ্ঞান, কলা ও শুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। সরস্বতী বৈদিক দেবী হলেও সরস্বতী পূজার বর্তমান রূপটি আধুনিককালে প্রচলিত হয়েছে। তবে প্রাচীনকালে তান্ত্রিক সাধকেরা সরস্বতী-সদৃশ দেবী বাগেশ্বরীর পূজা করতেন বলে জানা যায়। অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী দেবীর চরণে প্রণতি জানাবেন তারা।
সনাতন শাস্ত্রমতে, চতুর্ভূজা ব্রহ্মার মুখ থেকে আবির্ভূতা শুভ্রবর্ণা বীণাধারিণী দেবীই হলেন সরস্বতী। সনাতন ধর্মালম্বীদের মতে দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। কল্যাণময়ী, ঐশ্বর্যদায়িনী, বুদ্ধিদায়িনী, জ্ঞানদায়িনী, সিদ্ধিদায়িনী, মোক্ষদায়িনী এবং শক্তির আধার হিসেবে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবী সরস্বতীর আরাধনা করেন। সরস্বতী দেবী শ্বেতশুভ্র বসনা। দেবীর এক হাতে বেদ, অন্য হাতে বীণা। এজন্য তাকে বীণাপানিও বলা হয়।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী তার আশীর্বাদের মাধ্যমে মানুষের চেতনাকে উদ্দীপ্ত করতে প্রতি বছর আবির্ভূত হন ভক্তদের মাঝে। বাংলা বর্ষের মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা হয়। এই তিথি শ্রী পঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত। ধর্মীয় মতে নানা আচারে সরস্বতী দেবীকে পূজা আরাধনা করে তার চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া হবে। সরস্বতী পূজা এখন আর শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নেই। মন্দির ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপসহ অনেকে ঘরেই দেবীর আরাধনা করেন। সরস্বতী পূজার অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, হাতেখড়ি, প্রসাদ বিতরণ, সন্ধ্যা আরতি, ধর্মীয় আলোচনা, ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
প্রতিবারের মতো এবারো বোরাই তালতলা বহুবচন সংঘ, উৎসব পূজামণ্ডপ, বিনাপানি সংঘ, সাহাপাড়া পূজা কমিটি, রাধাগোবিন্দ ও লোকনাথ মন্দির, হাটখোলা কালিরাস ও শিব মন্দির, বুড়ো কালিতলা, কর্মকার পাড়া, শহরতলা, পালপাড়াসহ বিভিন্ন মন্দিরে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

