ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা বগুড়ায় মোট ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫০০টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থাসহ বহুস্তর নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ভোটকেন্দ্র ও ভোটার সংখ্যা : বগুড়ার সাতটি আসনে মোট ৯৮৩টি কেন্দ্র ও ৫,৪৭৮টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। মোট ভোটার সংখ্যা ২৯,৮১,৯৪০ জন। যেখানে পুরুষ ভোটার ১৪,৮০,৮৭১ জন ও নারী ভোটার ১৫,০১,০২৭ জন।
পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটার ২০,১৫৬ জন বেশি, যা নির্বাচনি গতিশীলতায় বিশেষ গুরুত্ব তৈরি করছে।
ঝুঁকির শ্রেণিবিভাগ : কেন্দ্রগুলো তিন ভাগে বিভক্ত—অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৯০ কেন্দ্র, ঝুঁকিপূর্ণ ৩১০ কেন্দ্র ও সাধারণ ৪৮৩ কেন্দ্র।
শাজাহানপুর উপজেলায় সর্বোচ্চ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে আর গাবতলীতে সর্বনিম্ন ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে।
আসনভিত্তিক ঝুঁকি : বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) ১২৬ কেন্দ্র—অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৭, ঝুঁকিপূর্ণ ৪৭, সাধারণ ৬২।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) : ১১৪ কেন্দ্র—অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৬, ঝুঁকিপূর্ণ ৪, সাধারণ ৮৪।
বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) : আদমদীঘি ৬১ (অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৬, ঝুঁকিপূর্ণ ৩৪), দুপচাঁচিয়া ৫৭ (অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৬, ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯)।
বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু ): নন্দীগ্রামে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ নেই, কাহালুতে ৩১।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) : শেরপুর ৩০, ধুনট ৬৩।
বগুড়া-৬ (সদর) : ১৫০ কেন্দ্র—অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৫, ঝুঁকিপূর্ণ ৪৮।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) : গাবতলী ১, শাজাহানপুর ৪৬।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া আসনে নির্বাচনি সংঘর্ষের সম্ভাবনা বেশি।
নিরাপত্তা কৌশল : বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার রহমান জানিয়েছেন, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকবে। সেনা, র্যাব, পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হবে।
প্রশাসন বিবেচনায় নিচ্ছে : অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন, ভ্রাম্যমাণ টহল টিম মোতায়েন, দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী প্রস্তুত, প্রয়োজন হলে অস্থায়ী বাহিনী ক্যাম্প স্থাপন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম জানিয়েছেন, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিরাপদ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা হবে।
ঝুঁকির কারণ : রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তীব্র, দলীয় বিভাজন ও জোটভিত্তিক লড়াই, স্থানীয় ক্ষমতাকাঠামোর দ্বন্দ্ব, ভোটদাতার ঘনত্ব ও কেন্দ্র ভৌগোলিক অবস্থা, নির্বাচনি সহিংসতার অতীত ইতিহাস।
বগুড়া ঐতিহাসিকভাবে বহুদলীয় প্রতিযোগিতার জেলা। বিগত নির্বাচনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতসহ একাধিক ফ্রন্ট সক্রিয় ছিল। প্রশাসন তাই এখানে বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হওয়ার পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


