× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

জিএম মিজান, বগুড়া

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

‘চেয়ারম্যান ভাই’ থেকে প্রতিমন্ত্রী : শিবগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত

জিএম মিজান, বগুড়া

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দীর চেয়ে ৫১,৭০৯ ভোট বেশি পেয়েছেন। 

বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৯ ভোট; যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল আজাদ মোহাম্মাদ শাহাদাতুজ্জামান (‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক) পেয়েছেন ৯২ হাজার ৬৩০ ভোট। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এই ফলাফল কেবল একটি আসনের জয় নয়; এটি শিবগঞ্জের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তৃণমূলভিত্তিক নেতৃত্বের পুনরুত্থানের প্রতীক।

ছাত্ররাজনীতি থেকে স্থানীয় নেতৃত্ব

শিবগঞ্জের মাটি থেকেই রাজনীতির হাতেখড়ি মীর শাহে আলমের। ছাত্রজীবনে সক্রিয় রাজনীতি দিয়ে শুরু, এরপর ধীরে ধীরে সাংগঠনিক দায়িত্বে যুক্ত হন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে, ১৯৯৭ সালে আটমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া তার রাজনৈতিক জীবনের প্রথম বড় মাইলফলক। তরুণ বয়সে প্রশাসনিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে সততা, কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্বগুণে তিনি আলোচিত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেই সময় থেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সরাসরি সংযোগ তার রাজনৈতিক মূলধনের ভিত্তি তৈরি করে।

দলীয় রাজনীতিতে সংগ্রাম ও দৃঢ়তা

পরবর্তীতে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) রাজনীতিতে। দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে মামলা ও কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, প্রতিকূলতার সময়েও তিনি সংগঠনের পাশে অবিচল ছিলেন। ২০০৯ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ‘রিকশা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হন। দায়িত্বকালীন সময়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কারণে স্থানীয়রা তাকে ‘চেয়ারম্যান ভাই’ নামে সম্বোধন করতে শুরু করেন, যা তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রতীক হয়ে ওঠে।

২০২৬ জাতীয় নির্বাচন: মনোনয়ন থেকে গণজোয়ার

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মীর শাহে আলম বিএনপি থেকে এমপি পদে মনোনয়ন পান। ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে মাঠে নামার পর থেকেই শিবগঞ্জে নির্বাচনি আবহে ভিন্ন মাত্রা তৈরি হয়।

প্রচারণায় তিনি তুলে ধরেন— খেটে-খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির শক্তিশালীকরণ। গ্রামভিত্তিক সভা, উঠান বৈঠক ও সরাসরি গণসংযোগের মাধ্যমে তার পক্ষে দৃশ্যমান গণজোয়ার তৈরি হয়। প্রায় অর্ধলক্ষাধিক ভোটের ব্যবধান সেই গণজোয়ারেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বিজয়ের পর প্রথম কর্মসূচি

নির্বাচনের পরদিন তিনি ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে অবস্থিত হযরত শাহ সুলতানের (রহ.) মাজারে জুমার নামাজ আদায় ও দোয়ার আয়োজন করেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। শিবগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি আগে ছিলাম আটমূল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, পরে উপজেলা চেয়ারম্যান। আপনারাই আমাকে ‘চেয়ারম্যান ভাই’ বলে ডাকতেন। দোয়া করবেন, যেন আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে পারি।’

এ ছাড়া তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বপালনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী

মীর শাহে আলম নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এটি বগুড়া-২ আসনের ইতিহাসে প্রথমবারের ঘটনা, যা আসনটির জন্য এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

বিজয়ের পেছনের মূল কারণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এই জয় কয়েকটি বিষয়ের সমন্বিত ফল— দীর্ঘদিনের তৃণমূলভিত্তিক সংগঠক পরিচয়, স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সামাজিক সম্পৃক্ততা। এটি কেবল দলীয় প্রতীকের জয় নয়; বরং ব্যক্তিগত আস্থা ও সাংগঠনিক শক্তির সমন্বিত সাফল্য।

প্রত্যাশার নতুন অধ্যায়

বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রত্যাশা বেড়েছে বহুগুণ। শিবগঞ্জবাসীর দাবি—কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামোর উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং কৃষিখাতে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন। তাদের ‘চেয়ারম্যান ভাই’ এখন জাতীয় সংসদের সদস্য। স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে জাতীয় নীতিনির্ধারণে তার কার্যকারিতা কেমন হবে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

তৃণমূল থেকে জাতীয় মঞ্চ

মীর শাহে আলমের রাজনৈতিক যাত্রা এক অর্থে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে উত্তরণের ধারাবাহিক গল্প। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান, সেখান থেকে সংসদ সদস্য—এই ক্রমোন্নতি তাকে শিবগঞ্জের রাজনীতিতে আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে। জনপ্রিয়তার এই পুঁজি বাস্তব উন্নয়নে কতটা রূপ নেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সময়ই বলে দেবে, ‘চেয়ারম্যান ভাই’ পরিচয়ের আবেগ জাতীয় সংসদে কার্যকর নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হবে, নাকি তা শুধুই স্থানীয় স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের এমপি ও প্রতিমন্ত্রীর টাইমলাইন (১৯৭৩–২০২৬)

১৯৭৩ সালে মোজাফফর হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে স্বাধীনতার পর এই আসনের প্রথম সংসদ সদস্য হন।

১৯৭৯ সালে কে. এম. মতিউর রহমান বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন এবং দলটির প্রথম বিজয়ী এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬ সালে মোজাফফর হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হন; পরে তিনি কৃষি ও বন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৮ সালে সৈয়দ মাসকুরুল আলম চৌধুরী বাংলাদেশ ফ্রিডম পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে স্বল্পকাল দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১ সালে মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।

ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালে রেজাউল বারী ডিনা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংক্ষিপ্ত মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।

জুন ১৯৯৬ সালে একেএম হাফিজুর রহমান বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পুনরায় জয়ী হন।

২০০১ সালে রেজাউল বারী ডিনা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালে একেএম হাফিজুর রহমান বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৪ সালে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ জাতীয় পার্টি (এরশাদ)-এর প্রার্থী হিসেবে সংসদে প্রবেশ করেন।

২০১৮ সালে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ জাতীয় পার্টি (এরশাদ)-এর প্রার্থী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন।

২০২৬ সালে মীর শাহে আলম বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বগুড়া-২ আসনের ইতিহাসে প্রথম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

Link copied!