× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

বিদ্রোহী প্রার্থী ও সমঝোতার রাজনীতি : কঠিন পরীক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট। একাধিক আসনে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে কিছু আসনে সংকট নিরসনের পথ তৈরি হয়েছে। যদিও সব আসনে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি ফিরে আসেনি বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনায় বসেছেন। এর ফলে ইতোমধ্যে অন্তত দুটি আসনের জট খুলেছে। অন্য আসনগুলোতেও সমঝোতার চেষ্টা চললেও কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনড় অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে শুরু থেকেই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় বিএনপি তুলনামূলকভাবে স্বস্তিতে রয়েছে। দলীয় নেতাদের ভাষ্য, এই আসনে নির্বাচনি প্রস্তুতিও অনেকটাই গুছিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সম্প্রতি অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে। এই আসনে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ওই ঘটনা তখন বিএনপির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়।

তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় শেষ পর্যন্ত সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। এতে নাসিরনগর আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভ্রান্তি ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এস এ কে একরামুজ্জামানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া একই আসনের আরেক স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান মামুনের সঙ্গেও চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনেও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা এম এ খালেক তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সমর্থিত প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকির পক্ষে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান। গত শনিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সভায় তিনি প্রকাশ্যে এই ঘোষণা দেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে সংকট এখনো কাটেনি। প্রথমে এই আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরে জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়াকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। দলীয় নেতারা জানান, এই জট নিরসনে তারেক রহমান নিজেই উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল মান্নানের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন কাজী নাজমুল হোসেন তাপস। এই বিষয়েও হাইকমান্ড পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সবচেয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসনে। এখানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব। তবে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন এবং নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না। এ ছাড়া তরুণ দে নামের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় থাকায় এই আসনে সমঝোতা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, ‘দলে কেউ মনোনয়ন না পেলে তার ব্যক্তিগত বা এলাকাভিত্তিক প্রত্যাশা থাকতেই পারে। সেগুলো হাইকমান্ডের কাছে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। তারেক রহমান নিজে এসব বিষয় শুনছেন বলেই অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি আসনের জট খুলেছে, বাকিগুলোও দ্রুত সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

তারেক রহমানের সক্রিয় হস্তক্ষেপে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল অনেকটাই প্রশমনের পথে। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সব আসনে ঐক্য নিশ্চিত করাই এখন বিএনপি হাইকমান্ডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, চলতি মাসের ২২ তারিখ তারেক রহমানের সিলেট যাওয়ার কথা রয়েছে। যাওয়ার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোডে একটি পথসভারও কথা রয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!