বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন, দল থেকে তাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বলা হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো কিছুর বিনিময়েও তিনি তার এলাকার মানুষকে ছেড়ে যাবেন না।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা।
এ সময় রুমিন ফারহানা বলেন, দল (বিএনপি) থেকে এখন সকাল-বিকেল ফোন করে বলছে, মন্ত্রিত্ব দেব, আসনটা ছেড়ে দেন। কিন্তু আমার জান থাকতে, শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে মন্ত্রিত্ব কেন—আরও কিছুর বিনিময়েও আমি আমার এলাকার মানুষকে ছেড়ে যাব না।
তিনি বলেন, ‘জয়-পরাজয় ওপর থেকে নির্ধারিত হয়, কিন্তু আপনারাই উসিলা। তাই আমি আপনাদের দরবারে আসছি, উঠান বৈঠকে যাচ্ছি, বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছি—খালি হাতে। একদিকে দল বহিষ্কার করছে, আবার অন্যদিকে মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব দিচ্ছে। আমি কোনো কিছুর বিনিময়ে আমার এলাকার মানুষকে ফেলে যেতে পারি না।’
স্বতন্ত্র এই প্রার্থী আরও বলেন, গত ১৭ বছর ধরে কার জন্য লড়াই করেছি, আপনারা সবাই জানেন। এখন মিডিয়ার যুগ—সবার হাতে মোবাইল। কে রাস্তায় লড়াই করেছে, কে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনে বসেছে, সংসদে দাঁড়িয়ে কে বলেছে এই সংসদ অবৈধ—সবই মানুষ জানে।
রুমিন ফারহানা বলেন, একটি কষ্টের কথা না বললেই নয়। যে দলের হাত ধরে আমার রাজনীতিতে আসা, সেই দলই আজ আমাকে বহিষ্কার করেছে। আমার নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার ভালোবাসা, আশ্রয় ও সহযোগিতায় আমি রাজনীতিতে এতদূর এসেছি।
তিনি আরও বলেন, আমার মা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকতে আমাকে বহিষ্কার করা যায়নি। তিনি মারা যাওয়ার পরই আমাকে বহিষ্কার করা হয়। দেশনেত্রী হাসপাতালে যাওয়ার দুই দিন আগে জানতে চেয়েছিলেন, রুমিনকে কেন মনোনয়ন দেওয়া হলো না? দল তখন এর কোনো জবাব দিতে পারেনি। আমাদের মা আল্লাহর মেহমান হয়ে যাওয়ার পরই আমাকে বহিষ্কার করা হয়।

-20260117153807.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন