ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-নাছিরনগর-লাখাই সড়কের সরাইলের কুট্রাপাড়া সেতুটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুটি উত্তর পাশের অংশে গর্ত হয়ে নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে। ফলে দিন দিন সড়কটি সরু হচ্ছে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘনায় প্রাণহানির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সব ধরনের যানবাহন এ সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে।
সরেজমিনে পথচারী ও যানচালক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬০-৭০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল কুট্রাপাড়া সেতুটি। তখনকার সময়ে এ সেতু দিয়ে সরাইল ও নাছিরনগরের যানবাহন চলাচল করত। কালের আবর্তে সরাইলের ধর্মতীর্থ এলাকায় পুটিয়া সেতু ও ফান্দাউক এলাকায় বলভদ্র সেতু নির্মিত হওয়ায় সড়কে যানবাহন চলাচল আরও বেড়ে যায়। গত ১০-১২ বছর আগে এ সড়ক দিয়ে ফান্দাউক লাখাই ও সিলেট এলাকার যানবাহনও চলাচল করছে। সময় বাঁচানোর জন্য সিলেট ও লাখাই এলাকার অনেক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী গাড়ি এ সড়কেই ঢাকায় যাতায়াত করছে। যার কারণে এই সড়কে পূর্বের তুলনায় অধিক যানবাহন চলাচল করছে। চাপ বাড়ছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘেষা কুট্রাপাড়া সেতুর। সেতুটি অবস্থা কিছুটা নড়বড়ে। প্রায় ১-২ মাস আগেই দেখা গেছে সেতুটির উত্তরের অংশ কিছুটা নিচের দিকে দেবে গেছে। ধীরে ধীরে সেই গর্ত বড় হয়ে এখন সংলগ্ন সড়কটিও নিচের দিকে দ্রুত দেবে যাচ্ছে।
গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে ওই গর্তের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। ফলে ঝুঁকি বাড়ছে সড়কে চলাচলকারী সব ধরনের যানবাহনের। স্থানীয় জিল্লুকদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বলেন, সেতুর বয়স প্রায় ৬০-৭০ বছর। এখন অনেক ওজনের বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এটির ওপর দিয়ে যাতায়ত করছে। অনেক আগেই এটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। সেতুটি দ্রুত সংস্কার না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কুট্রপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শ্রমিক দলের নেতা আইয়ুব হোসেন বলেন, সেতুর উত্তর পাশের অবস্থা খুবই বিপজ্জনক। বর্তমানে সেখানে গাড়িগুলো থমকে যাচ্ছে। দিনের চেয়ে রাতে ঝুঁকি বেশি। যেকোনো সময় প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা বেশি। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনেছি। সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক ও জনপদের (সওজ) কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন