ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও বিবেকবোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের যৌথ আয়োজনে উপজেলা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা ও দিনব্যাপী নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. জামশেদুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল আন্দালিব কবীর পিএসসি, আনসার ও ভিডিপি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত ও জেলা কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) চট্টগ্রাম সাখাওয়াত জামিল সৈকত। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানি আকন, সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মো. সোহানুর রহমান সোহাগ, বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ সাইফুল্লাহ এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দেবাশীষ দাশ প্রমুখ।
এ ছাড়াও এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাঁশখালী উপজেলায় দিনব্যাপী নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উক্ত প্রশিক্ষণে উপজেলার ১১২টি ভোটকেন্দ্রের ১১২ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৭২০ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৪৪০ জন পোলিং অফিসারকে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত আইন, বিধি-বিধান, দায়িত্ব ও আচরণবিধি বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা। এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সবাইকে সফল হতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে ন্যায্য দাবি আদায়ে মানুষকে রক্ত দিতে হয়। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্র মেরামতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস হচ্ছে এই নির্বাচন ও গণভোট।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ৫ মিনিটের মধ্যে মোবাইল টিম পৌঁছাবে। এজন্য সব বাহিনীর মধ্যে সর্বোচ্চ সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো সংস্থা বা বাহিনীর পক্ষ থেকে সামান্যতম শৈথিল্যও বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের দায়ভার নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করবে না। বিশেষ করে গণভোটের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা অবশ্যই সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ১৩ হাজার ৮১৮ জন পুরুষ, ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৩৭ জন নারী এবং ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।


