ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, অভিযানে গ্রেপ্তার ২২

চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকাটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ।

তিনি জানান, সোমবার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথবাহিনী রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল এবং পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া ১৯টি সিসি ক্যামেরা, তিনটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব সরঞ্জাম অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো।

ডিআইজি আরও জানান, অভিযানে আলীনগর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের আস্তানা, অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে।

পাশাপাশি আলীনগরের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ারগুলোও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এসব ওয়াচ টাওয়ার ব্যবহার করে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গমনাগমন পর্যবেক্ষণ করত।

অভিযানের পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

এর মধ্যে এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে জেলা পুলিশ ও এপিবিএনের ১৩০ সদস্য এবং আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে আরআরএফ, এপিবিএন ও র‍্যাব-৭ এর ২৩০ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় চেকপোস্ট বসানো ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার ভোর ৬টায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ৫৫০ জন সেনাসদস্য, ১ হাজার ৮০০ পুলিশ সদস্য, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র‍্যাব এবং ১২০ বিজিবি সদস্য অংশ নেন।

এছাড়া ১৫টি এপিসি, তিনটি ডগ স্কোয়াড ও তিনটি হেলিকপ্টার রিজার্ভ রাখা হয়েছিল। জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন প্রবেশমুখ দিয়ে ভাগ হয়ে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে সীতাকুণ্ড থানায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলার বাদী পুলিশ এবং একটি মামলার বাদী র‍্যাব। অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা এসব মামলায় গ্রেপ্তার ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন এবং র‍্যাব-৭ এর সিইও লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান বক্তব্য রাখেন।