চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও পটিয়া সীমান্তের পাহাড়ি এলাকা থেকে অপহৃত দুই কৃষক অবশেষে মুক্তিপণ দিয়ে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন।
সোমবার (৮ জুন) ভোরে কাঞ্চননগর পাহাড়ি এলাকার নিমঝিরি থেকে তাদের অপহরণ করা হলেও ওই রাতেই মুক্তিপণ দিয়ে তারা ছাড়া পান। মুক্ত পাওয়া দুই কৃষক হলেন চন্দনাইশের মো. শাহজাহান (৪০) এবং মো. আজগর (৪১)।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৮ জুন) ভোরে মো. শাহজাহান ও মো. আজগর কাঞ্চননগর পাহাড়ি এলাকার নিমঝিরি নামক স্থানে নিজেদের বাগানে কাজ করতে যান।
এ সময় পাহাড় থেকে নেমে আসা ৩ জন সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে অজ্ঞাত পাহাড়ের গভীরে নিয়ে যায়।
গত ৯ জুন সাংবাদিকদের কাছে অপহণের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে মো. শাহজাহান বলেন, সকালে তাদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে অন্য একটি পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে তারা রামু এলাকার নুরুল আলম নামের আরেকজন কৃষককে দেখতে পান। সন্ত্রাসীরা তার কাছে বাড়ির মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি তা দিতে পারেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অপহরণকারীরা তার গলায় ফাঁস দিয়ে এবং লাথি মেরে পাহাড় থেকে নিচে ফেলে দিলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। ওই সময় স্থানীয় লোকজন পাহাড়ে এগিয়ে আসছে টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা তাদের নিয়ে আরও দুটি পাহাড় অতিক্রম করে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কৃষকদের পরিবারের কাছে প্রথমে মাথাপিছু ২ লাখ টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এ বিষয়ে কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য (মেম্বার) তৌহিদুল আলম জানান, পরিবারের লোকজন প্রথমে অপহরণকারীদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ৫০ হাজার টাকা পাঠালেও মুক্তি না দিয়ে আরও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে আরও ৫০ হাজার টাকা পাঠানো হলে ওই রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। টাকা বুঝে নেওয়ার পর সন্ত্রাসীরা তাদের মোবাইল ও সিম কার্ড রেখে দেয় এবং পাহাড় থেকে নামিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট হাঁটার পর একটি পাহাড়ি ছড়ায় এনে তাদের ছেড়ে দেয়।
এ বিষয়ে চন্দনাইশ থানার ওসি দিদারুল ইসলাম সিকদার জানান, অপহৃত ব্যক্তিরা চন্দনাইশের বাসিন্দা হলেও ঘটনাটি ঘটেছে পটিয়া থানা এলাকায়, ফলে বিষয়টি পটিয়া থানা পুলিশ দেখছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাঞ্চননগর পাহাড়ি এলাকাটি পটিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার সীমান্তে হওয়ায় কোনো অপরাধ ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশি সহযোগিতা পাওয়া যায় না, যার সুযোগ নিয়ে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা একের পর এক অপহরণ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এই সীমান্ত অঞ্চলে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী এই সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কবল থেকে স্থায়ী রেহাই পেতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


