চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতার কারাগারে নেওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। তবে পুলিশের দাবি, তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি।
বুধবার (২৪ জুন) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নুরুল আলম (৪৫) নামে ওই যুবলীগ নেতার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
নুরুল আলম সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
নিহতের পরিবার জানায়, কেরানীহাট সিটি সেন্টারের পাশে নুরুল আলমের একটি জমি রয়েছে। ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে একটি ভূমিদস্যু চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার পরিবারকে নানা ধরনের হয়রানি করে আসছিল। পরিবারের অভিযোগ, আরিফ, রফিক হাজী ও সোহান হাজী নামে কয়েকজনের নেতৃত্বে ওই চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে।
নুরুল আলমের বড় বোন বকুল আক্তার বলেন, ‘জমি দখলের জন্য একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পরিবারকে চাপ দিয়ে আসছিল। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।’
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে ভূমি-সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যাওয়ার পথে থানার গেট এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এরপর ২০২৪ সালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে কারাগারে নেওয়া হয় এবং বুধবার সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
সাতকানিয়া থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি স্বাভাবিক ও হাসিখুশি অবস্থায় আদালতে গেছেন। থানায় তাকে নির্যাতনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

