ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারে তৈরি হচ্ছে অবৈধ পথ, বাড়ছে অপরাধের শঙ্কা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ১১:২২ এএম
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা কাঁটাতারের বেড়া কেটে একাধিক গোপন চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব পথ দিয়ে ক্যাম্পের বাসিন্দাদের অবাধ যাতায়াত চলছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের আশঙ্কা, এই অবৈধ পথগুলো এখন শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের জন্যও নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের নিচের অংশ কেটে বা পুরো অংশ সরিয়ে এমনভাবে পথ তৈরি করা হয়েছে, যাতে সহজেই মানুষ যাতায়াত করতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি রাতের অন্ধকারেও এসব পথ ব্যবহার করে ক্যাম্পে প্রবেশ ও বের হওয়ার ঘটনা ঘটছে। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ইয়াবা পাচার, অস্ত্র বহন, চুরি, ডাকাতি এবং শিশু নিখোঁজের মতো অপরাধের ঘটনা বেড়েছে।

স্থানীয়দের মতে, কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত এসব কাটা পথ দিয়ে ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়ায় তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর নজরদারির ঘাটতির কারণে বিভিন্ন স্থানে বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অবৈধ পথ তৈরি হয়েছে, যা পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কাটা অংশ দিয়ে এখনও নিয়মিত যাতায়াত চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি দ্রুত এসব পথ বন্ধ করে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা শুধু ক্যাম্পের বাসিন্দাদের নয়, পুরো উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। যারা কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধ পথ তৈরি করছে, তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত ও যৌথ টহল বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

উখিয়া অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ রয়েছে। তার মতে, বেড়া কেটে যাতায়াতের সুযোগ থাকলে ইয়াবা পাচার, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তাই শুধু বেড়া নির্মাণ নয়, এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কঠোর পাহারার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি।

উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, বিপুল ব্যয়ে নির্মিত নিরাপত্তা বেড়া যদি কেটে অবৈধ পথ তৈরি হয়, তাহলে পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। তিনি এটিকে শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবেও উল্লেখ করে দ্রুত মেরামত ও সার্বক্ষণিক নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে পুলিশ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধ চলাচল বা অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় টহল এবং নজরদারিও আরও জোরদার করা হয়েছে।